দুবাইতে কি সত্যি সস্তা সোনার দাম? কেনার আগে ভারতীয়রা জেনেনিন কিছু নিয়ম

বছরের শুরুতেই সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮০ হাজারের গণ্ডি পার করেছে সোনার দর। যাদের সোনার গহনার শখ রয়েছে, তারা চড়া দামের কারণে বেশ চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যে দুবাইতে নাকি সস্তায় সোনা পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, সত্যিই কি দুবাইতে সোনা সস্তায় মেলে? ভারতীয়রা দুবাই থেকে কত পরিমাণ সোনা আনতে পারেন?

গুজব নয়, সত্যিই দুবাইতে ভারতের তুলনায় কম দামে সোনা বিক্রি হয়। দুবাইতে বিশেষ সোনার বাজারও রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দুবাইতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৩১৩.৬৬ দিরহাম, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৭,১৩৮.৯৮ টাকা প্রতি গ্রাম। সে সময় ভারতের বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৮,২২৫ টাকা প্রতি গ্রাম।

✅ করমুক্ত সোনা – দুবাইতে সোনা কেনার ওপর কোনো অতিরিক্ত কর বসানো হয় না। ক্রেতারা শুধু সোনার ওজন অনুযায়ী দাম এবং মেকিং চার্জ দেন।

✅ ইমপোর্ট ডিউটি নেই – দুবাইতে সোনার ওপর কোনো আমদানি শুল্ক বা ইমপোর্ট ডিউটি বসে না। ফলে দাম কমে যায়।

✅ প্রতিযোগিতামূলক বাজার – দুবাইতে বহু সোনার দোকান এবং বিরাট প্রতিযোগিতা থাকায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ছাড় ও অফার দেওয়া হয়।

যদিও দুবাইতে সোনা সস্তা, কিন্তু তা ভারতে আনতে হলে বেশ কিছু সরকারি নিয়ম ও শুল্কের বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

🔹 পুরুষরা সর্বাধিক ২০ গ্রাম সোনা আনতে পারেন, যার মূল্য ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো কাস্টম ডিউটি দিতে হয় না।

🔹 মহিলারা সর্বাধিক ৪০ গ্রাম সোনা আনতে পারেন, যার সর্বোচ্চ মূল্য ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো শুল্ক দিতে হবে না।

এর বেশি সোনা আনতে হলে কাস্টম ডিউটি দিতে হবে। ২০২৩ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সোনার আমদানি শুল্ক ১৫% থেকে কমিয়ে ৬% করেছিল, ফলে ভারতীয়রা এখন তুলনামূলকভাবে কম খরচে দুবাই থেকে সোনা আনতে পারছেন।

যদি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সোনা কেনা হয় এবং কাস্টম শুল্ক পরিশোধ করা হয়, তাহলে দুবাই থেকে সোনা কেনা এখনো লাভজনক হতে পারে। তবে নিয়ম ভেঙে বেশি পরিমাণ সোনা আনলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই দুবাই থেকে সোনা কেনার আগে অবশ্যই এই নিয়মগুলো জেনে নেওয়া উচিত।