জেলে বন্দি মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা কিনা জানতে চালু নতুন আইন, করানো হবে প্রেগনেন্সি টেস্ট

রাজ্যের সংশোধনাগারে মহিলা বন্দিদের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। বন্দি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সর্বত্র। এই বিতর্কের জেরে আদালত বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দেয়। এবার সংশোধনাগারে মহিলা বন্দিরা অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন কি না, তা জানার জন্য চালু করা হল প্রেগনেন্সি টেস্ট।

আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারে প্রথমবার এই পরীক্ষা চালু হয়েছে। জেল সূত্রের খবর, গত দুই মাস ধরে নিয়মিত এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। সপ্তাহে প্রতিদিনই মহিলা কর্মীদের উপস্থিতিতে এই টেস্ট করানো হচ্ছে।

কাদের ক্ষেত্রে প্রেগনেন্সি টেস্ট বাধ্যতামূলক?
✅ যাঁরা নতুন বন্দি হয়ে সংশোধনাগারে ঢুকছেন
✅ যাঁরা প্যারোলে বেরিয়ে ফিরে আসছেন
✅ বিচারাধীন বন্দিরা, যাঁরা আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরে আসছেন

জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ জন মহিলা বন্দির এই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কেন এত কড়া ব্যবস্থা?
আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় মহিলা বন্দিদের আত্মীয়-স্বজন বা স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ কম থাকে। তবে সংশোধনাগারে মহিলা বন্দিদের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়। সেই পরিদর্শনের রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—

২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলে অন্তত ১৯৬টি শিশু তাদের মায়েদের সঙ্গে রয়েছে।এদের অনেকের পিতৃপরিচয় নিয়েই সংশয় রয়েছে।একাধিক মহিলা বন্দির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা সামনে আসে।

এই ঘটনার জেরে কলকাতা হাইকোর্ট মহিলা সংশোধনাগার ও নাবালিকাদের হোমে পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। পরে সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেয়।

রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, বন্দিরা সাধারণত প্যারোলে থাকাকালীন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফেরেন এবং পরে সংশোধনাগারে প্রসব করেন। তবে নতুন করে বিতর্ক এড়াতে এবার নিয়মিত প্রেগনেন্সি টেস্ট চালু করা হল। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরীক্ষার ফলে ভবিষ্যতে আরও কোনও বিতর্ক তৈরি হবে না এবং মহিলা বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।