“গ্যাংস্টারের ছেলে ও যৌনকর্মীর প্রেম”-‘অ্যানোরা’ পেলো অস্কারে সেরা সিনেমার খেতাব

৯৭তম অস্কার আসরে চলচ্চিত্র জগতে চমক দেখিয়েছে শন বেকার পরিচালিত ‘অ্যানোরা’। বহুল আলোচিত এই ছবি প্রত্যাশা অনুযায়ী সেরা ছবি-সহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জিতে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছিল এই সিনেমা। এবার অস্কারের মঞ্চে এটি আবারও ঝড় তুলল।
‘অ্যানোরা’ পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। পরিচালনার জন্য শন বেকার পেয়েছেন ‘সেরা পরিচালক’ পুরস্কার। মাত্র ২৫ বছর বয়সী মাইকি ম্যাডিসন ছবিটির জন্য ‘সেরা অভিনেত্রী’র পুরস্কার জিতে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা স্ক্রিনপ্লে এবং সেরা এডিটিং বিভাগেও পুরস্কার এসেছে ছবিটির ঝুলিতে।
ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়লেন শন বেকার
এই জয়ের মধ্য দিয়ে শন বেকার একটি ইতিহাসও গড়েছেন। তিনি একটি একক ছবির জন্য এক বছরে চারটি অস্কার জিতে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। সেরা পরিচালকের পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি বলেন, “আমরা সবাই এখানে এসেছি এবং এই অনুষ্ঠান দেখছি, কারণ আমরা সিনেমাকে ভালোবাসি। আমরা সিনেমার প্রেমে পড়েছি কোথায়? সিনেমা হলে।” তাঁর এই বক্তব্যে দর্শকদের মধ্যে উৎসাহের ঢেউ উঠে।
‘অ্যানোরা’র গল্প
‘অ্যানোরা’ সিনেমার গল্প একটি আবেগময় ও উত্তেজনাপূর্ণ প্রেমকাহিনি। এতে দেখানো হয়েছে, এক কুখ্যাত রাশিয়ান গ্যাংস্টারের ছেলে এক যৌনকর্মীর প্রেমে পড়ে। দুজনে বিয়ে করেন, কিন্তু গ্যাংস্টার পিতা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেন না। রাশিয়ায় খবর পৌঁছানোর পর তিনি বিয়েটি বাতিল করতে নিউইয়র্কে রওনা দেন। ফলে হুমকির মুখে পড়ে তরুণ দম্পতির জীবন। শন বেকার এই গল্পকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছেন।
প্রযোজনা ও শুটিং
শন বেকারের সঙ্গে এই ছবি প্রযোজনা করেছেন তাঁর স্ত্রী সামান্থা কোয়ান। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে শুটিং হয়েছে ‘অ্যানোরা’র। ছবিটির দৃশ্যধারণ ও গল্পের গভীরতা এটিকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছে।
অন্যান্য বিজয়ীদের উল্লেখ
এই আসরে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২২ বছর পর ফের ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কার জিতেছেন অ্যাড্রিয়েন ব্রডি। ফিলিস্তিনি তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ ‘সেরা তথ্যচিত্র ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে অস্কার পেয়েছে। এছাড়া, একটি সিনেমার দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে দুটি পুরস্কার জিতে আলোচনায় এসেছে।
‘অ্যানোরা’র এই অভূতপূর্ব সাফল্য চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শন বেকার ও তাঁর দলের এই জয় শুধু তাঁদের কৃতিত্বই নয়, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও একটি প্রেরণা।