হলদিয়ায় রণংদেহি মমতা! শুভেন্দুর নাম না করে চরম আল্টিমেটাম, ২০২৬-এর আগে তুঙ্গে পারদ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান। মঙ্গলবার হলদিয়ার জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাঁকে ‘গদ্দার’ সম্বোধন করার পাশাপাশি নন্দীগ্রামের সেই বিতর্কিত হারের প্রসঙ্গ তুলে ফের একবার ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ আনলেন তৃণমূল নেত্রী।

‘লোডশেডিং করে ভোট চুরি’

নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ যে আজও অমলিন, তা এদিন তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়। হলদিয়ার মঞ্চ থেকে তিনি গর্জে উঠে বলেন, “আগেরবার লোডশেডিং করে নন্দীগ্রামে ভোট লুট করেছে গদ্দার! মানুষ ওকে চায়নি, কারচুপি করে জিতেছে।” উল্লেখ্য, ২০২১-এর নির্বাচনে নন্দীগ্রামে অত্যন্ত কম ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা, যা নিয়ে মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন।

ভোটের পর চরম হুঁশিয়ারি

এদিন শুধুমাত্র পুরনো অভিযোগেই থেমে থাকেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। নাম না করে শুভেন্দুকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এখন অনেক লাফালাফি করছ করো, কিন্তু ভোটের পর নিজেকে সামলাও। আইন আইনের পথে চলবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির পাল্টা হিসেবে রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অধিকারী গড়ে চ্যালেঞ্জ

একদা অধিকারীদের খাসতালুক বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর থেকে দাঁড়িয়েই মমতার এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মূল ইস্যু: শুভেন্দু অধিকারীর দলবদল এবং নন্দীগ্রামের হার।

  • লক্ষ্য: জেলার কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করা এবং ২০২৬-এ জেলার হারানো জমি পুনরুদ্ধার।

  • সুর: আক্রমণাত্মক এবং সরাসরি সংঘাতের পথে।

শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এখনও এই আক্রমণের পাল্টা দেননি, তবে হলদিয়ার এই সভা যে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।