হাসিনার পর এবার নিশানায় কে? নতুন করে সমীকরণ কষছে ছাত্ররা, স্থিতিশীলতা আসবে, নাকি অস্থিরতা তৈরি হবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। এই সমীকরণ না আওয়ামী লীগ, না বিএনপি কিংবা জামাতের। বরং এটি যুব প্রজন্মের নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান।

পালাবদলের পর ছয় মাস, কিন্তু কী পরিবর্তন এল?
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে ছয় মাস আগে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ড. ইউনূস যখন প্রশাসনের দায়িত্ব নিলেন, তখন অনেকেই আশাবাদী ছিলেন পরিবর্তনের বিষয়ে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ কি সত্যিই বদলেছে?

কেউ কেউ বলছেন, পরিবর্তন এসেছে, তবে তা রক্তক্ষয়ী ও নৃশংস। বিগত কয়েক মাসে দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

পদ্মা নদী যুগে যুগে বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী। পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর উত্থান ও মৃত্যু, শেখ হাসিনার পতন—সবকিছুর সঙ্গেই পদ্মা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আর এবার এই পদ্মার পাড়েই রচিত হতে চলেছে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কারা তৈরি করছে?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাই এবার সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চলেছেন। জুলাই মাসের সেই ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন, যা সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল, এখন তা একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি নাহিদ ইসলাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁরা সরকারি পদ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটবেন। মনে করা হচ্ছে, এই দল জাতীয় নির্বাচনের আগেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামবে।

সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলের নাম ঘোষণা করা হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মঞ্চ ও জাতীয় নাগরিক কমিটি মিলে নতুন দল গঠন করতে চলেছে। তবে দলের নাম, নেতৃত্ব এবং কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন—
“বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক দল গঠন করছি।”

এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি কি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে, নাকি আরও অস্থিরতা তৈরি হবে? সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।