SPORTS: “ভাগ্যিস ছিল দেবাশিস…”-শিল্ড জেতার ম্যাচেও মোহনবাগানের অন্দরে ভোটের আঁচ

মোহনবাগান ক্লাবে নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে, আর তার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মাঠেও। বিভিন্ন হোম ম্যাচে দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা সবুজ-মেরুন জার্সি পরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছেন। কখনও টিফোয় উঠেছে বর্তমান সচিব দেবাশিস দত্তের সমর্থনের স্লোগান, কখনও আবার প্রাক্তন সচিব সৃঞ্জয় বসুর পক্ষে গলা ফাটিয়েছেন সমর্থকদের একাংশ। রবিবার লিগ শিল্ড ট্রফি নিশ্চিত করতে মাঠে নামার সময় টিফোয় দেখা গেল, ‘ভাগ্যিস ছিল দেবাশিস…’। এই ‘ছিল’ শব্দটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সৃঞ্জয় গোষ্ঠীর সমর্থকরা। দেবাশিস তো এখনও ক্লাবের সচিব, তাহলে ‘ছিল’ বলার মানে কী?
ম্যাচের দিন দেবাশিসকে কিছুটা চুপচাপ দেখা গেলেও, সৃঞ্জয় ও তাঁর সমর্থকরা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। মোহনবাগানের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যেন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রবিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট লিগ শিল্ড নিশ্চিত করলেও, ক্লাবের নির্বাচনী উত্তেজনা ম্যাচের উত্তাপকেও ছাপিয়ে গেছে।
নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক
শনিবার ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ক্লাবের পুরোনো নিয়ম মেনে নির্বাচন হবে, নাকি সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় আনা নতুন নিয়মে, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শাসক গোষ্ঠীর একাংশের মতে, বর্তমান কমিটি আগস্ট পর্যন্ত কাজ চালাতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠী বলছে, সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টে তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলে এই কমিটি একদিনও ক্ষমতায় থাকতে পারে না।
এই জটিলতা মেটাতে এগিয়ে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়ম মেনে নির্বাচন জরুরি। তার জন্য বোর্ড তৈরি হোক। কোন নিয়মে হবে, তা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কিশোর দত্তর পরামর্শ নেওয়া উচিত।” কার্যকরী কমিটি কুণালের এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
সদস্যদের মত প্রকাশের সুযোগ
সচিব দেবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, “সদস্যদের একাংশের মত কার্যকরী কমিটি শুনেছে। মোহনবাগান ক্লাবে মোট ১০ হাজার সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাই ১০ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে, যাতে সদস্যরা তাঁদের বক্তব্য জানাতে পারেন।” এই পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানালেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ নিয়ে এখনও স্পষ্টতা আসেনি।
মাঠের জয়ের মাঝে ক্লাবের টানাপোড়েন
রবিবারের ম্যাচে দিমিত্রি পেত্রাতোসের শেষ মুহূর্তের গোলে লিগ শিল্ড জয়ের উল্লাসে মেতে উঠলেও, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রেখেছে। দেবাশিস ও সৃঞ্জয় গোষ্ঠীর মধ্যে চলা এই দ্বন্দ্ব কীভাবে নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সবুজ-মেরুন ভক্তদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে। নির্বাচন বোর্ডের কাজ শুরু হলে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের একটা সমাধান হবে বলে আশা করছেন অনেকে। তবে এই মুহূর্তে মোহনবাগানের মাঠের জয়ের পাশাপাশি ক্লাবের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।