“”ঝালমুড়ি থেকে মন্দিরে পুজো””—ছকভাঙা প্রচারে কতটা ‘বাঙালি’ হলেন মোদী?

২০২১-এর নির্বাচনে ‘বাঙালি অস্মিতা’র যে বয়ান তৃণমূল তৈরি করেছিল, ২০২৬-এও সেই একই পথেই হাঁটছে শাসকদল। ‘বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’ স্লোগানকে সঙ্গী করে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করছেন, বিজেপি বাংলায় এলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে নাক গলাবে, বন্ধ হয়ে যাবে মাছ-মাংস-ডিম। তবে এবার সেই ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচাতে এবং বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে এক নজিরবিহীন কৌশল গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি নেতৃত্ব।
মাছ যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: তৃণমূলের প্রচারের পাল্টা জবাব দিতে এবার সরাসরি ‘মাছ’ নিয়েই ময়দানে নেমেছেন বিজেপি নেতারা।
-
বিজেপির উত্তর-পূর্ব ভারতের নেতা তেমজেন ইমনা আলং থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার—সবাইকে প্রকাশ্যে আমিষ ভোজ করতে দেখা যাচ্ছে।
-
এমনকি বিজেপি প্রার্থীরা থলে হাতে বাজারে গিয়ে মাছ কিনছেন, মানুষের প্লেটে মাছের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছেন।
-
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও প্রচারে এসে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের প্রতি তাঁর পূর্ণ সম্মান রয়েছে।
ছকভাঙা প্রচারে মোদী: আগেকার মতো শুধু ‘এলাম, সভা করলাম, চলে গেলাম’—এই ছক থেকে বেরিয়ে এসেছেন মোদী। এবার তাঁর প্রচারে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া স্পষ্ট:
-
আধ্যাত্মিক যোগ: প্রথম দফার ভোটের দিনই তাঁর বেলুড় মঠ সফর এবং বিবেকানন্দের ধ্যানের জায়গায় সময় কাটানো ছিল এক মাস্টারস্ট্রোক।
-
বাংলার মণীষী বন্দনা: বারবার নামের বিভ্রান্তি রুখতে এবার প্রতীকী উপস্থাপনায় জোর দিচ্ছে বিজেপি। মোদীর হাতে শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হয়েছে।
-
সংস্কৃতির আঙিনায়: কখনও ঝালমুড়ি খাওয়া, কখনও গঙ্গার হাওয়ায় রোড-শো—এই সবকিছুর মাধ্যমেই মোদী নিজেকে ‘বহিরাগত’ থেকে ‘ঘরের লোক’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল বনাম বিজেপি: অস্মিতার লড়াই: তৃণমূল যেখানে ‘বাঙালি বিরোধী’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে কোনঠাসা করতে চাইছে, সেখানে বিজেপি রামনামের বদলে দুর্গা-কালী ও শাক্ত উপাসনার দিকে বেশি ঝুঁকেছে। রবিবারের ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি দর্শন সেই কৌশলেরই অংশ, যেখানে আমিষ ভোগ নিবেদনের প্রাচীন প্রথা আজও অটুট।
পর্দার ‘হিরোগিরি’ হোক বা ইভিএম-এর লড়াই—বাঙালির মন জয় করতে এখনকার সব পথই যেন যাচ্ছে রসুইঘর আর মনীষীদের ড্রয়িং রুমের ওপর দিয়ে।