“৩৬ ঘণ্টায় ১৫০০ র বেশি গ্রেফতার!”-ভোটের মুখে অশান্তি রুখতে কড়া অ্যাকশন কমিশনের

আগামী ২৯ এপ্রিল বাংলার ১৪২টি আসনে ভাগ্যনির্ধারণ। তার ঠিক আগেই অশান্তি রুখতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে সম্ভাব্য গোলমাল এড়াতে গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে মোট ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেফতার হয়েছেন ১০৯৫ জন।
গ্রেফতারির তালিকায় শীর্ষে বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনা: কমিশন সূত্রে খবর, অশান্তি পাকাতে পারেন এমন ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জেলাভিত্তিক গ্রেফতারির সংখ্যা:
-
পূর্ব বর্ধমান: ৪৭৯ জন (সর্বোচ্চ)। গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ি ভগতও।
-
উত্তর ২৪ পরগনা: ৩১৯ জন।
-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন।
-
উত্তর কলকাতা: ১০৯ জন।
-
নদিয়া: ৩২ জন (সর্বনিম্ন)।
মধ্যরাতে জগদ্দলে রণক্ষেত্র: কমিশনের এতড়াও কড়াকড়ি সত্ত্বেও রবিবারের রাত ছিল রক্তক্ষয়ী। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানা চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বেঁধে যায় তুমুল সংঘর্ষ। অভিযোগ, দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে ব্যাপক বোমাবাজি ও পাথরবৃষ্টি চলে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং জগদ্দল থানায় ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরামবাগের সাংসদের ওপর হামলা: সোমবার সকালে ফের উত্তেজনা ছড়ায় হুগলিতে। আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। গাড়ির কাচ ফেটে শরীরে বিঁধে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে সাংসদ দাবি করেন, তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় ৫ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অমিত শাহের কড়া বার্তা: বাংলার এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বাংলায় হিংসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়েই হচ্ছে। তবে এবার মানুষ ভয় পাবে না। অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।”
ভোটের ঠিক আগে এই ধরপাকড় আর অশান্তির রেশ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।