“ভুল করে ফেলেছি আমি”-বলেছে ৭ মাসের শিশুর ধর্ষক, জেনেনিন কী ঘটেছিল সেই রাতে?

মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে চার্জশিট, ৮১ দিনের মাথায় ফাঁসির সাজা। কলকাতার পকসো আদালত ৭ মাসের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত রাজীব ঘোষ ওরফে গোবরাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

বিচারক ইন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় মিত্র এই মামলাকে “বিরলের মধ্যে বিরলতম” উল্লেখ করে বলেন, “ঘটনাটি এতটাই নৃশংস যে তা শিহরিত করে। অপরাধের ভয়াবহতা বিচার করে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি।”

কি ঘটেছিল সেই রাতে?
২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর, কলকাতার বড়তলায়, ফুটপাথে মা-বাবার সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা ৭ মাসের শিশুকন্যাকে মাঝরাতে অপহরণ করে রাজীব ঘোষ ওরফে গোবরা। এরপর সে শিশুটিকে পাশের একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গ এবং বৃহদন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে এখনো সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।

তদন্ত এবং গ্রেফতার
ঘটনার পরপরই বড়তলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানসী মাইতির নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়।
✔ সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় অভিযুক্তকে।
✔ ৪ ডিসেম্বর ঝাড়গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজীব ঘোষকে।
✔ ডিএনএ পরীক্ষায় তার বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ নিশ্চিত হয়।

আদালতে দোষ স্বীকার, তবু শাস্তি চাইল রাষ্ট্রপক্ষ
আদালতে শুনানির সময় রাজীব ঘোষ স্বীকার করে নেয় যে সে “ভুল করে ফেলেছে” এবং কম শাস্তির আবেদন জানায়। কিন্তু সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। অভিযুক্তের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তিই একমাত্র ন্যায়বিচার হতে পারে।”

বিচারক বলেন, “একটি ৭ মাসের শিশুর ওপর এমন নির্মম অত্যাচার ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। তাই মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র প্রাপ্য শাস্তি।”

দ্রুত বিচারের নজির
🕒 মাত্র ২৬ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
⚖ ৮১ দিনের মধ্যেই শেষ হয় বিচার ও দোষীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়।
📜 ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২), ৬৫(২) এবং শিশু সুরক্ষা আইনের (পকসো) ৬ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয় রাজীব।

এই রায় নজির হয়ে থাকবে
কলকাতার এই ঘটনায় দ্রুত বিচার ও ফাঁসির সাজা কার্যকর হওয়া দেশের আইনি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে। পুলিশের কার্যকর ভূমিকা, ফরেনসিক প্রমাণ এবং দ্রুত বিচারব্যবস্থার ফলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

📌 শিশুদের প্রতি যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি কার্যকর করাই এই রায়ের প্রধান বার্তা।