কেন ভারতের নির্বাচনে ভোটদানের হার বাড়াতে $২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করত USA? তদন্ত চায় BJP সাংসদ

বিজেপি এবার মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলল, যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে যে ইউএস এইড ভারতে নির্বাচনে ভোটদানের হার বৃদ্ধির জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিজেপি নেতারা এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন, যার মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন হল, এর মাধ্যমে কি ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ হয়েছিল?

বিজেপি সাংসদ মহেশ জেঠমালানি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং প্রাক্তন ইউএস এইড ভারতের মিশনের প্রধান বীণা রেড্ডির নাম উল্লেখ করে বলেন, “২০২১ সালে ইউএস এইডের ভারতীয় মিশনের প্রধান হিসেবে বীণা রেড্ডিকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ফিরে যান। তিনি থাকলে ভালো হত, কারণ তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে জেরা করতে পারতেন।”

এর আগে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এসওয়াই কুরেশি স্বীকার করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন ইউএস এইডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল, তবে দাবি করেছিলেন যে সেই চুক্তিতে কোনও অর্থায়নের কথা ছিল না। যদিও বিজেপি নেতারা এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এই টাকা খরচের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

বিজেপি নেতাদের মতে, ইউএস এইডের এই উদ্যোগ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। মহেশ জেঠমালানি আরও বলেন, “প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেট্টির সঙ্গে বীণা রেড্ডির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এরিকের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটির কথা বলতেন।”

ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ গভার্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE) এক রিপোর্টে দাবি করেছে, যে ২১ মিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র ভারতেই নয়, বাংলাদেশ, মালি, নেপাল সহ আরও অনেক দেশে ভোটদানের হার বৃদ্ধি করতে খরচ করা হয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়, মার্কিন সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশে আরও বেশি ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং লিখেছেন, “ভোটের হার বৃদ্ধি করতে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ? এটা স্পষ্টভাবে ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ।”

এই ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হচ্ছে, যে এটি একধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে, যেখানে ভারতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হচ্ছে। এর আগে, ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, জর্জ সোরোসের মতো ব্যক্তিরা ‘ভুয়ো প্রচার’ চালাচ্ছিলেন, যা বিজেপির মতে, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার একটি প্রয়াস হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন দূতাবাস এই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তাদের দেশ ভারতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার কোনও উদ্দেশ্য রাখে না। তবে, বিজেপির দাবি অনুযায়ী, এর চেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসছে—এর পিছনে কোন শক্তি কাজ করছে এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে।