নিজেকে মনে করেন বিড়াল, এমনকি পড়ানোর সময়ও অদ্ভুদ আচরণ করেন এই শিক্ষিকা!

শিক্ষক ও শিক্ষিকার ভূমিকা সমাজে খুবই মর্যাদাপূর্ণ, যাদের মূল কাজ হল শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। তবে বর্তমান যুগে কিছু শিক্ষিকা অদ্ভুত আচরণের শিকার হচ্ছেন, যা শিক্ষার মন্দিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের লোগানের মার্সডেন স্টেট হাই স্কুলে, যেখানে এক শিক্ষিকা নিজেকে বিড়াল মনে করেন এবং বিড়ালের মতো আচরণ করেন।
জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা ক্লাসে থাকা অবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে বিড়ালের মতো হাত চেটে ফেলেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতও চেটে দেন। তাঁকে ‘মিস পার’ হিসেবে ডাকার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়, কারণ ‘পার’ শব্দটি সাধারণত বিড়ালের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, তিনি ক্লাসে বিড়ালের কান যুক্ত চুলের ব্যান্ড ও গলায় ‘পার’ নেকলেস পরেন। এসব আচরণ দেখে অভিভাবকরা তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
একজন অভিভাবক সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” অভিভাবকদের অন্যতম বড় উদ্বেগ হল, যদি শিক্ষার্থীরা এমন আচরণ দেখে এবং মেনে নেয়, তাহলে তারা নিজেও এ ধরনের অদ্ভুত আচরণ শুরু করতে পারে। একজন অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, “স্কুল প্রশাসন কেন এত দিন পরে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”
তবে স্কুল প্রশাসন এখনও ওই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেনি, এবং তিনি নিজের বিড়ালের আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। বিষয়টি বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভাইরাল হওয়ার পর, শিক্ষিকা ও স্কুলের বিরুদ্ধে আরও সমালোচনা চলছে।
অন্যদিকে, কিছু মানুষ নিজেদের বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণী হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন আচরণ “ফুরি” নামক মানসিক অবস্থার একটি অংশ হতে পারে, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে প্রাণী হিসেবে অনুভব করেন। এর মধ্যে একটি উদাহরণ হিসেবে আমেরিকার ডেনিস অ্যাভনারের নাম নেওয়া হচ্ছে, যিনি ১৪টি অপারেশন করে নিজেকে বিড়ালে রূপান্তরিত করেছেন।
এ ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে বহু অভিভাবক তাদের সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে অনুরোধ করেছেন।