“শিগ্রই আসছে নতুন আয়কর বিল”- শুক্রবারই বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে মোদী সরকার?

মোদী ৩.০ বাজেট ২০২৫ পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী সপ্তাহে একটি নতুন আয়কর বিল পেশ করা হবে। এখন, এক নতুন আপডেটের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, আগামী শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন পেতে পারে। এর পরেই, সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি, লোকসভায় এই বিল পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই নতুন আয়কর বিলের উদ্দেশ্য হল কর কাঠামোকে সহজ এবং স্বচ্ছ করা। সূত্রের মতে, নতুন বিলে কোনো নতুন কর আরোপ করা হবে না, বরং বিদ্যমান কর কাঠামোকে আরও যুক্তিসঙ্গত ও স্পষ্ট করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের জন্য আয়কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ১৯৬১ সালের আয়কর আইনকে সহজ, স্পষ্ট ও বোধগম্য করা।

এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন আয়কর বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন নতুন সংস্কার এবং অপরাধের শাস্তি কমানোর প্রস্তাব থাকবে। এই প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের কর ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমান আয়কর আইনের জটিলতা কমিয়ে, এটি আরো সহজ করে তোলা হবে।

নতুন আয়কর ব্যবস্থা
২০২৫-২৬ বাজেটে আনা নতুন স্ল্যাব পরিবর্তনগুলির ফলে সাধারণ জনগণের হাতে আগের তুলনায় বেশি টাকা আসবে। এই নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী, ১২ লাখ টাকার পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। আর ৭ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ব্যক্তিদের জন্য আয়কর শূন্য।

নতুন স্ল্যাবের তালিকা অনুযায়ী:

নতুন কর ব্যবস্থা (NEW TAX REGIME 2025):

০–৪ লাখ: ০%
৪–৮ লাখ: ৫%
৮–১২ লাখ: ১০%
১২–১৬ লাখ: ১৫%
১৬–২০ লাখ: ২০%
২০–২৪ লাখ: ২৫%
২৪ লাখের উপরে: ৩০%
পুরনো কর ব্যবস্থা (OLD TAX REGIME):

০ থেকে ২.৫ লাখ টাকার মধ্যে আয়ের জন্য: ০%
২.৫ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে আয়ের উপর: ৫%
৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে আয়: ২০%
১০ লাখ টাকার উপরে আয়: ৩০%
সহজ এবং পরিষ্কার আইন
বর্তমানে, আয়কর আইন প্রায় ৬ লক্ষ শব্দের দীর্ঘ একটি দলিল, যা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৩ লক্ষ শব্দে নামিয়ে আনা হতে পারে। নতুন আয়কর খসড়া বিলটির উদ্দেশ্য হচ্ছে করের ভিত্তি বাড়ানো, যা সম্প্রতি স্ল্যাব পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছুটা কমে গেছে।

অর্থমন্ত্রী সীতারমন জানিয়েছেন, নতুন কর ব্যবস্থার স্ল্যাব পরিবর্তনের ফলে এক কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ জনগণের হাতে আরও বেশি টাকা আসবে, যা তাঁদের জীবনের নানা খরচে সহায়ক হবে।

নতুন স্ল্যাব ও সহজ আইনের মাধ্যমে সরকার আশা করছে যে, দেশের কর ব্যবস্থা হবে আরও স্বচ্ছ এবং নাগরিকদের জন্য সুবিধাজনক।