“প্রথমে শুনলাম হারিয়ে গিয়েছে”-মহাকুম্ভে পদপিষ্টে মৃত শালবনির বৃদ্ধা, শোকে পরিবার

প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় মৌনী অমাবস্যার অমৃত স্নান করতে গিয়ে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে এবং এখনও অনেকেই নিখোঁজ। এই ঘটনায় মৃতদের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির ঊর্মিলা ভুঁইয়া নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে গিয়েছিলেন পুণ্য অর্জনের জন্য, তবে দুঃখজনকভাবে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।
মহাকুম্ভে পদপিষ্টের ভয়াবহ দৃশ্য
গত সোমবার, মৌনী অমাবস্যার দিন, পুণ্য অর্জনের জন্য প্রায় লক্ষাধিক তীর্থযাত্রী সঙ্গমে স্নান করতে আসেন। রাত ২টা নাগাদ সঙ্গমের ঘাটে প্রবল ভিড় জমে যায়। এর মধ্যে একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার পর শুরু হয় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। এই ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পদপিষ্টের ঘটনা মেলার ইতিহাসে এক বড় বিপর্যয়ের আকার ধারণ করেছে।
বাংলার ঊর্মিলা ভুঁইয়ার মৃত্যু
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি ব্লকের গোদাপিয়াশাল সংলগ্ন কাছারি রোড এলাকার বাসিন্দা ৭৮ বছরের বৃদ্ধা ঊর্মিলা ভুঁইয়া মৌনী অমাবস্যায় পুণ্য অর্জনের জন্য তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন। তার পুত্রবধূ অম্বিকা ভুঁইয়া জানান, ‘ফোনে খোঁজ নিতে গিয়ে আমাদের জানানো হয়, উনি হারিয়ে গিয়েছেন। পরে জানানো হয়, তিনি পাওয়া গিয়েছেন, তবে তিনি আর বেঁচে নেই।’ এই খবর শুনে পরিবারের সদস্যরা দুঃখিত ও শোকাহত।
মহাকুম্ভে ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থা
এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটার পর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে প্রশাসন মহাকুম্ভ এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গোটা কুম্ভমেলা এলাকাকে ‘নো-ভেহিকল জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থাৎ কোনো ধরনের গাড়ি মেলা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া, VVIP পাসও বাতিল করা হয়েছে, যাতে গাড়িগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবেশ না করতে পারে। নতুন নির্দেশনায়, মেলা এলাকার রাস্তাগুলি একমুখী করা হয়েছে এবং শহরের চার চাকার যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।
মহাকুম্ভে ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আহ্বান
প্রশাসন জানিয়েছে যে, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে মহাকুম্ভে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। প্রশাসন ভক্তদের সহযোগিতা কামনা করেছে, যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায় এবং সবাই নিরাপদে পুণ্য অর্জন করতে পারে।
এই ঘটনার পর, কুম্ভমেলা এলাকায় নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়।