‘মনুয়া কাণ্ড’-এর ছায়া, প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে কুপিয়ে খুন স্ত্রীর? চাঞ্চল্য ঘটনায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির তুলসী চক এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, যেখানে স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমিকের যোগসাজশে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গৌতম হালদার নামক টোটো চালককে সোমবার রাতে নিজের বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মধ্যে শোরগোল পড়ে যাওয়ায় ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়, এবং রাতেই গৌতমের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র:
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গৌতমের স্ত্রী প্রতিমা দীর্ঘদিন ধরে জামতলার যুবক গুরুদাস গায়েনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। ১৬ বছর আগে গৌতমের সঙ্গে বিয়ে হলেও, তাদের সম্পর্ক সুখের ছিল না। স্ত্রীর অন্য একটি সম্পর্কের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই গৌতমের সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছিল। একাধিকবার তাদের সংসারের অশান্তি পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং গ্রামে সালিশি সভার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে, শেষ পর্যন্ত ১৪ বছরের মেয়ে প্রতিমাকে সঙ্গে রেখে স্ত্রীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন গৌতম, এমন দাবি করেছেন তাঁর দিদি।
খুনের কৌশল:
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সোমবার রাতে গৌতমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে গুরুদাস। পুলিশ ইতিমধ্যেই গুরুদাসকে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রতিমা মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ আরও জানায়, তদন্তকারীরা অন্যান্য সম্ভাব্য যুক্তিতেও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ধারণা, ত্রিকোণ প্রেমের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
পরিবারের অভিযোগ:
গৌতমের ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতিমা ও গুরুদাসের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানায়।
মনুয়া কাণ্ডের স্মৃতি:
এ ঘটনার সঙ্গে ২০১৭ সালে ঘটিত ‘মনুয়া কাণ্ড’-এর তুলনা চলছে, যেখানে স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমিকের যোগসাজশে স্বামীকে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় স্ত্রীর প্রেমিক অজিত রায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এবার কুলপির এই হত্যাকাণ্ডও সেই কাণ্ডের মতোই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই খুনের ঘটনা আবারও বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতরে বিদ্যমান অশান্তি এবং অবিশ্বাসের কড়া প্রতিবিম্ব হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার জটিলতা খোলাসা করার চেষ্টা করছে, তবে গ্রামবাসী এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।