NGO-র নাম করে স্কুলে গ্রুপ ডি চাকরি! বেতন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা

গোঘাটের একটি সরকারি স্কুলে গ্রুপ ডি পদে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এনজিওর নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ হয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে কাজ শুরু করেছেন অনেকেই, কিন্তু বেশিরভাগ কর্মী এখনও বেতন পাননি।
প্রতারিত এক কর্মী জানান, “আমাকে এনজিওর পক্ষ থেকে ফোন করে বলা হয়, স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দেওয়া হবে। কাজ শুরু করলেও চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এনজিওর কাছেই যোগাযোগ করতে হবে।”
আরেক চাকরিপ্রার্থী সুদক্ষিণা মণ্ডল বলেন, “আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এই কাজ নিতে হয়েছে। পাড়ার সুব্রত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তবে বেতন না পেয়ে এখন আমি হতাশ।”
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের নিয়োগে তারা প্রশ্ন তোলেনি কারণ কর্মীর অভাব ছিল। তবে বেতন দেওয়ার দায়িত্ব এনজিওর বলেই তারা দাবি করেছে। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নারায়ণচন্দ্র পাঁজা বলেন, “আমাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। এনজিওই কর্মীদের নিয়োগ ও বেতন দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল।”
সরকারি শিলমোহর ছাড়াই কীভাবে এমন নিয়োগ সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্কুল পরিদর্শক থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন—কেউই এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীরা ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, যিনি এই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে সেই এনজিওর কোনও খোঁজ মিলছে না।
প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি চন্দন মাইতি বলেন, “স্কুলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারীর অভাব রয়েছে। হয়তো সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে স্কুলগুলোর আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল, যাতে এ ধরনের প্রতারণা এড়ানো যায়।”
গ্রুপ ডি পদের আশায় প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীরা এখন হতাশ। বেতন না পেয়ে তাঁরা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এনজিওর সঙ্গে যুক্তদের খুঁজে বের করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এনজিওর দায়মুক্তির অজুহাতে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সরকারি শিলমোহর ছাড়া নিয়োগ ও এনজিওর মাধ্যমে প্রতারণার এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠছে।