বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকার সাহায্য! আরামবাগ ও সবং নিয়ে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

টানা বৃষ্টি ও কেলেঘাই নদীর জল উপচে প্লাবিত হয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি আকাশপথে পরিদর্শনে বের হলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল, আরামবাগ এবং সবংয়ের জলমগ্ন এলাকাগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সাহায্যে একাধিক বড় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
সবংয়ের বিডিও অফিসে আয়োজিত পর্যালোচক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এই প্লাবনের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দুজন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের সিআরএফ (CRF) এবং সিএম রিলিফ ফান্ড (CM Relief Fund) থেকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই বিপর্যয়ে যে ৩২টি কাঁচা বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে কৃষকদের সুরক্ষা নিয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আজ থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্যবীমার ক্যাম্প শুরু করা হচ্ছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ধানচাষিরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এছাড়া মাদুর চাষিদের জন্য আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কেলেঘাই নদীর জল বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। জলবন্দি মানুষের বাড়ি পর্যন্ত রেশন এবং পানীয় জলের জার পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্বের স্মৃতিচারণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী আকাশপথে বা সরাসরি এই অঞ্চলে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এলেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান রয়েছে বলেই এই কঠিন সময়ে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত ত্রাণের কাজ তদারকি করছেন বলে জানান তিনি।