RG Kar : দেওয়ালে ছিল রক্তের ছোপ, কেন ৮ তলার ঘর পরীক্ষা করেনি CBI? উঠছে প্রশ্ন

আরজি করের চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা আদৌ চারতলার সেমিনার রুমে ঘটেছিল কিনা, তা নিয়ে সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণার পরেও অনেকের মনে সন্দেহ রয়ে গেছে। এরই মধ্যে ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের আটতলার অর্থোপেডিক বিভাগের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ঘিরে নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে সেমিনার রুমে কোনও ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছিল না, যা ‘ঘটনাস্থল’ নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আবহে আনন্দবাজার পত্রিকার একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে সিবিআই আটতলার ওই অপারেশন থিয়েটারটি পরীক্ষাই করেনি। এর জেরে আরজি করের আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে অপারেশন থিয়েটার নিয়ে সন্দেহ ছিল, তাহলে কেন সিবিআই সেটি পরীক্ষা করল না?
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ অগস্টের পরে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরজি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হওয়ার পর। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী ইমার্জেন্সি ভবনের আটতলার ওটিতে কিছু গ্লাভস পড়ে থাকতে দেখেন, যাতে লালচে দাগ ছিল। সেখানে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ব্লেডও পড়ে ছিল। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত সিআইএসএফ জওয়ানদের জানানো হলে তারা গিয়ে দেওয়ালে রক্তের ছোপ দেখতে পান। এই ঘটনা সিবিআইকে জানানো হলে তারা মৌখিকভাবে ঘরটি সিল করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সিএফএসএল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই অভিযোগ উঠেছে যে আটতলার ওই ঘরে কেউ ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তবে সিবিআই এতদিনেও সেই ঘর পরীক্ষা করেনি, যা নিয়ে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। উল্লেখ্য, চারতলার নার্সিং স্টেশনের পিছনের লিফট দিয়ে ওই অপারেশন থিয়েটারে যাওয়া যায়।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ ৯ অগস্ট মৃতদেহের পাশ থেকে একটি চুলের খাম পেয়েছিল, যা সেখানে কীভাবে এল তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। এছাড়াও, তরুণীর ম্যাট্রেসের নীচে একটি কালো ও নীল রঙের ইয়ারফোন এবং তার দেহের নীচে একটি ভাঙা চশমা পাওয়া যায়। ঘরে ধস্তাধস্তি না হয়ে থাকলে কীভাবে চশমা তরুণীর পিঠের নীচে বা ইয়ারফোন ম্যাট্রেসের নীচে যেতে পারে, সেই প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত।
এই বিষয়ে আরজি করে নির্যাতিতা তরুণীর বাবার দাবি, সিবিআই ধরে নিয়েছে যে সঞ্জয় রায়ই একমাত্র দোষী। তাই একাধিক অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও তারা সেগুলির তদন্ত করছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সিবিআই আগে বলেছিল আটতলার ঘর বন্ধ করে রাখতে, এখন বলছে খুলে দেওয়া যেতে পারে। এমন আচরণের কারণ কী? কেন সন্দেহজনক ঘরটি তদন্তের বাইরে থাকবে?” এই ঘটনা আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।