মুখ্যমন্ত্রীর ধমকে উধাও রাজাভাতখাওয়ার গেট, জঙ্গলে ঢুকতে আর কোনও টাকা লাগবে না পর্যটকদের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ধমকেই রাতারাতি খুলে গেল রাজাভাতখাওয়ার গেট। এখন থেকে আলিপুরদুয়ারের জয়ন্তীতে প্রবেশ করতে আর বন দফতরকে কোনও ‘এন্ট্রি ফি’ দিতে হবে না পর্যটকদের। বন দফতরের সেই বিতর্কিত রাজাভাতখাওয়া ফরেস্ট গেট রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে। এখন আর কোনও কড়াকড়ি নেই, পর্যটকরা অবাধে জয়ন্তীতে যাতায়াত করতে পারছেন।
এতদিন ধরে পর্যটকদের গাড়ি নিয়ে জয়ন্তীতে প্রবেশ করতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হত। প্রতিটি গাড়ির জন্য ৪৮০ টাকা এবং সেই সাথে প্রত্যেক পর্যটকের জন্য আলাদা করে ১৫০ টাকা করে এন্ট্রি ফি ধার্য করা ছিল। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারে অনুষ্ঠিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে স্থানীয় বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল এই বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনেন। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বনদফতরের আধিকারিকদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের অর্থ আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই এই গেটটি নিয়ে স্থানীয় মানুষজন ও পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলনও হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপে রাজাভাতখাওয়া গেটটি তুলে দেওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। তাদের মতে, এর ফলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে এবং তাদের ব্যবসা আরও উন্নত হবে।
তবে, এই গেট খুলে যাওয়ায় স্থানীয় অটোচালকরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। কারণ, এখন পর্যটকরা নিজেদের গাড়ি নিয়ে সরাসরি জয়ন্তীতে প্রবেশ করতে পারবেন, ফলে অটো ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন যে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের সামগ্রিক আয় বাড়বে।
এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন পর্যটকদের হয়রানি কমল, তেমনই অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।