BigNews: সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে আবেদন রাজ্য সরকারের, জেনেনিন কী বলল হাইকোর্ট?

আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে শিয়ালদা আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। রাজ্য সরকার এই সাজার বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং সঞ্জয়ের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা নতুন মোড় নিয়েছে এই ঘটনায়।

সিবিআই-এর আপত্তি:

এদিনের শুনানির শুরুতেই সিবিআই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য হল, এই মামলায় দোষীর সর্বোচ্চ সাজার আবেদন সিবিআই নিজে অথবা নির্যাতিতার পরিবার করতে পারে। এমনকি, দোষী সঞ্জয় রায়ও আপিল করতে পারে। কিন্তু, রাজ্য সরকার কীভাবে এই মামলায় আবেদন করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিবিআই। তাদের যুক্তির সমর্থনে সিবিআই লালুপ্রসাদ যাদবের একটি মামলার উদাহরণ দেয় এবং জানায় যে সেই মামলাও হাইকোর্ট গ্রহণ করেনি।

রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া:

রাজ্য সরকারের আইনজীবী সিবিআই-এর এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। তারা ৩৭৭ ও ৩৭৮ নম্বর ধারা অনুসারে রাজ্য সরকারেরও এই আবেদন করার অধিকার আছে বলে বিচারককে জানান।

আদালতের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানতে চান, রাজ্য সরকারের দায়ের করা এই মামলা সম্পর্কে নির্যাতিতার পরিবার অবগত কি না। বিচারপতি আরও জানতে চান, এই মামলা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের অবস্থান কী। এরপরই আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিনই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে যে রাজ্যের এই মামলা গ্রহণ করা হবে কি না। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।

পূর্বের ঘটনা:

প্রসঙ্গত, শিয়ালদা আদালত সোমবার সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা করে এবং তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। বিচারক অনির্বাণ দাস তার রায়ে এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেননি। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে যাবে বলে জানান। সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার হাইকোর্টে আপিল করেছে।