“মোবাইল নয় হলে, পোস্টার টেস্ট পেপারে”-প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপ পর্ষদের

মাধ্যমিক, ডাক্তারি (নিট) বা নেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে মালদাকে ‘সেনসিটিভ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে পর্ষদ। পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে মালদা সফর করে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
পর্ষদ সূত্রে খবর, গত বছর মাধ্যমিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সারাদেশে ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল, যার মধ্যে ৪২ জনই ছিল মালদার। এই কারণে মালদাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে পর্ষদ। প্রশ্ন ফাঁস রুখতে এবার টেস্ট পেপারের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পোস্টারিং–এর মাধ্যমেও সতর্কতা প্রচার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে জেলাগুলিকে বিশেষভাবে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। টেস্ট পেপারের একটি বিশেষ পাতায় এই সংক্রান্ত সচেতনতামূলক পোস্টারও ছাপা হয়েছে।
পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তিনি নিজে তিন দিন মালদা জেলায় থেকে সেখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জেলাজুড়ে প্রচার চালাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছিল। এই প্রবণতা রুখতে পর্ষদ নাম্বারিং, কিউআর কোড-এর মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষকদের মোবাইল ফোনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে পর্ষদের আক্ষেপ, মালদার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা দেখা যায়নি।
পর্ষদ মনে করছে, শুধু সচেতনতার অভাবই নয়, এর পেছনে কোনো চক্রও সক্রিয় থাকতে পারে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যই সভাপতির এই মালদা সফর। তিনি মনে করেন, মালদার শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন। পর্ষদ মালদার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরিবারকেও সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এবার মালদার পরীক্ষাকেন্দ্রের আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হতে পারে।
সংক্ষেপে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মালদার উপর বিশেষ নজর রাখছে এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করছে।