“যেখানে হাতির ভয়, সেখানে কি বিয়ে হয়?”- জেনেনিন সম্পূর্ণ ঘটনা

ধূপগুড়ির ভাণ্ডারকুড়া গ্রামের বিয়ের যোগ্য তরুণ-তরুণীদের জীবনে এক অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাত্র-পাত্রী উভয়ই যোগ্য, পরিবারও রাজি, কিন্তু বিয়ে কিছুতেই সম্পন্ন হচ্ছে না। কারণ, গ্রামটি জলপাইগুড়ি বন বিভাগের মরাঘাট রেঞ্জের পাশে অবস্থিত এবং এখানে হাতির উপদ্রব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

আলতা ২ নং পঞ্চায়েতের এই গ্রামটি জঙ্গলের কোলে অবস্থিত। চারদিকে গাছপালা ঘেরা, পাশেই মরাঘাট রেঞ্জ। যেখান থেকে প্রায়ই হাতি বেরিয়ে আসে। কখনও খাবারের খোঁজে, কখনও এমনিই ঘুরতে ঘুরতে তারা গ্রামে ঢুকে পড়ে, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি করে। ফলে গ্রামবাসীরা সর্বদা আতঙ্কে থাকেন। রাতের বেলা এই ভয় আরও বেড়ে যায়।

এই খবর আশেপাশের গ্রামের সকলেরই জানা। তাই ভাণ্ডারকুড়িতে মেয়ে বিয়ে দিতে অনেকেই রাজি হন না। দূর থেকে সম্বন্ধ এলেও হাতির কথা গোপন রাখা যায় না, যার ফলে অনেক সম্বন্ধ ভেঙে যায়। গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে তাই গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন এবং সেখান থেকে তাদের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি পাত্রপক্ষকে এই প্রতিশ্রুতিও দিতে হচ্ছে যে নতুন বউকে ভাণ্ডারকুড়ি গ্রামে যেতে হবে না।

কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনা:

সঞ্জিত রায়ের বিয়ে আলতাগ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগে পাত্রীর মামা ও পিসেমশাই ভাণ্ডারকুড়িতে এসে হাতির পায়ের ছাপ দেখে যাওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায়।
এমনও ঘটনা ঘটেছে যে, বিয়ে প্রায় পাকা, শুধু দিনক্ষণ ঠিক হবে। পাত্রীর পরিবার পাত্রের গ্রামে কুটুম্বিতা করতে এসেছে, এলাহি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে, এমন সময় হাতি এসে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। এরপর পাত্রপক্ষ আর এই গ্রামে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি।
তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। কিছু সাহসী মানুষ তাদের মেয়েদের এই গ্রামে বিয়ে দিচ্ছেন, অথবা পাত্ররা এই গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছেন এই ভেবে যে তাদের শ্বশুরবাড়িতে বেশিদিন থাকতে হবে না।

এই হাতির আতঙ্ক ভাণ্ডারকুড়ি গ্রামের তরুণ-তরুণীদের জীবনে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।