OMG! অনলাইনের পার্সেল দিতে এসে শ্লীলতাহানি বালিকার, ডেলিভারি বয় কে খুঁজছে পুলিশ

হুগলির শ্রীরামপুর এলাকার মাহেশে একটি ই-কমার্স সংস্থার ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা গেছে, ২৬-২৭ বছর বয়সী ডেলিভারি বয় একটি পার্সেল ডেলিভারি দিতে ওই বাড়িতে আসে। সেই সময় বাড়িতে কিশোরী একা ছিল। অভিযোগ, ডেলিভারি বয় ওটিপি চাওয়ার অজুহাতে কিশোরীকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে তার শ্লীলতাহানি করে। কিশোরীর চিৎকারে সে পালিয়ে যায়।

কিশোরীর অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীরামপুর থানায় পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে মাহেশ থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হলেও সে কর্মসূত্রে মাহেশে ভাড়া থাকত। ধৃত যুবককে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আমি প্রত্যেকের কাছে বিনীত আবেদন করছি যে, আপনার বাচ্চা যখন একা আছে, সেই সময়ে বাড়িতে কোনও ডেলিভারি পার্সনকে ঢুকতে দেবেন না।” তিনি পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং অভিভাবকদের “সতর্ক থাকতে, চোখকান খোলা রাখতে” এবং “বাচ্চারা যাতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে, সে জন্য যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই ঘটনা অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাংসদের সতর্কবার্তার পাশাপাশি, কিছু নেটিজেন ডেলিভারি পার্সনদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং এ ধরনের ঘটনার জন্য সকল ডেলিভারি কর্মীকে যেন হেনস্থা করা না হয়, সেই বিষয়েও মতামত দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ডেলিভারি বয় ওটিপি চাওয়ার অজুহাতে কিশোরীকে দোতলায় নিয়ে যায় এবং সেখানে শ্লীলতাহানি করে। কিশোরীর চিৎকারে সে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসের সময় শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।