“ধর্ষককে যৌনতায় অক্ষম করে দেওয়াই হোক ধর্ষণের শাস্তি!”-RG Kar প্রসঙ্গ উঠল সুপ্রিম কোর্টে

সম্প্রতি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে নারকীয় ধর্ষণের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের যৌন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার (রাসায়নিক বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নপুংসককরণ) দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারের জবাব চেয়েছে। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের মহিলা আইনজীবীদের অ্যাসোসিয়েশন এই আবেদনটি দাখিল করেছে। আবেদনে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার মতো নারী নির্যাতনের ঘটনায় আরও কঠোর শাস্তির পাশাপাশি অভিযুক্তদের জামিন না দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের ধর্ষণের ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আরজি করের মর্মান্তিক ঘটনাটিও অন্তর্ভুক্ত।
আবেদনকারীদের মতে, বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় অভিযুক্তরা যথাযথ শাস্তি পাচ্ছে না। আবেদনে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলি হল:
১. ন্যাশনাল সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি: একটি জাতীয় যৌন অপরাধী তালিকা তৈরি করা, যেখানে অপরাধীদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত থাকবে।
২. বাধ্যতামূলক রাসায়নিক নপুংসককরণ: ধর্ষণের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের বাধ্যতামূলকভাবে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যৌন অক্ষম করে দেওয়া।
৩. পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট নিষিদ্ধকরণ: সমস্ত প্রকার পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা।
৪. স্কুলে সচেতনতা কার্যক্রম: স্কুল পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যৌন নির্যাতন ও এর প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।
৫. ত্বরিত বিচার: যৌন হেনস্থার মামলাগুলির ৬ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা।
৬. ‘নো বেল’ নিয়ম: যৌন হেনস্থার মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্যতার (নো বেল) নিয়ম চালু করা।
৭. ক্যাব চালকদের প্রশিক্ষণ: ওলা, উবেরের মতো সংস্থার চালকদের মহিলা যাত্রীদের সাথে ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
৮. ছাত্রীদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ: আত্মরক্ষার জন্য ছাত্রীদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
আবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে রাসায়নিক নপুংসককরণের মতো শাস্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। স্থায়ী নপুংসককরণ ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো শাস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আবেদনটি আইনজীবী ফিলজা মুনিস, সিনিয়র আইনজীবী মহালক্ষ্মী পাভানি, আইনজীবী সুমেধা সেন এবং শৌর্য মিশ্র দাখিল করেছেন। এই আবেদনের ফলে নারী নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।