“মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে পেরেছি”- বিরল চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাল মিশন হাসপাতাল

দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক অসম্ভব কাজ সম্পন্ন করেছেন। রাঁচির বাসিন্দা বিনীতা কুমারী (নাম পরিবর্তিত) নামে এক মহিলাকে তিনটি প্রাণঘাতী রোগের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। মস্তিষ্কের জটিল রোগ হাইড্রোসেফালাস, মস্তিষ্কের সংক্রমণ ভেন্ট্রিকুলাইটিস এবং পেটের সংক্রমণ বাইল লিকেজ—এই তিনটি রোগ একসঙ্গে হওয়া খুবই বিরল এবং সাধারণত মৃত্যু ঘটায়। কিন্তু চিকিৎসকদের দক্ষতার কারণে বিনীতা এখন সুস্থ।

একটি জটিল চিকিৎসা

বিনীতার মস্তিষ্কে জল জমার সমস্যা (হাইড্রোসেফালাস) ছিল বলে ২০০৩ সালে তাঁর মস্তিষ্কে শান্ট বসানো হয়েছিল। কিন্তু পরে পেটের অস্ত্রোপচারের জটিলতায় পিত্তনালী ফুটো হয়ে যায় এবং সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল।

দলগত প্রচেষ্টা

দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের নিউরোসার্জন, গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞরা মিলে এই জটিল চিকিৎসা করেছেন। ডা. সত্যজিৎ দাস, যিনি এই চিকিৎসা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, জানিয়েছেন, “এটি শুধু নিউরোসার্জারি ছিল না, গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের সমান ভূমিকা রয়েছে ওই রোগিণীকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে আনার নেপথ্যে।”

একটি অসাধারণ সাফল্য

মাসখানেকের ছকভাঙা চিকিৎসার পরে বিনীতা এখন সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এই চিকিৎসা সফল হওয়ায় চিকিৎসকরা খুবই খুশি। ডা. সত্যজিৎ বসু বলেন, “আমরা খুশি যে আমরা বিনীতাকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে পেরেছি।”

কীভাবে এই চিকিৎসা সফল হল?

বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মিলিত প্রচেষ্টায় এই চিকিৎসা সফল হয়েছে।হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকায় এই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। বিনীতা নিজেও এই চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন।