“অমানবিক কাজের চাপ সামলাতে পারল না…”-মেয়ের মৃত্যুতে অফিসের বস কে দুষলেন মা

পুণের এক কনসালট্যান্সি ফার্মে অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যু হল এক তরুণীর। মৃত অ্যানা সেবাস্টিয়ান পেরাইলের মা অনিতা অগাস্টিন অভিযোগ করেছেন, অর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং কনসালট্যান্সি ফার্মে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মায়ের দাবি, সংস্থা কর্তৃপক্ষ অ্যানাকে অতিরিক্ত কাজ দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে পুণের এক কনসালট্যান্সি ফার্মে কাজ করতে করতে মৃত্যু হল অ্যানা সেবাস্টিয়ান পেরাইলের। তার মায়ের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অ্যানার মৃত্যুর পর পরিবার এবং সংস্থা কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

অনিতা অগাস্টিন বলেন, ‘কাজের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক কর্মীই ওই ফার্ম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যানার বস ওকে বলেছিল, আরও পরিশ্রম করে দেখিয়ে দিতে। সকলকে ভুল প্রমাণ করে দিতে। ক্রিকেট ম্যাচের সময় মিটিং ফেলতেন ওঁর বস। অনেক রাতেও অতিরিক্ত কাজ দিয়ে দিতেন। এতে ওঁর স্ট্রেস ক্রমশ বাড়ছিল। একবার একটি অফিস পার্টিতে জনৈক কর্মী মজার ছলেই বলেছিলেন, কী ভাবে ওঁর বস অতিরিক্ত খাটাচ্ছেন। সেটাই পরে বাস্তবে পরিণত হলো।’

মা আরও বলেন, ‘গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো অ্যানাকে। মেয়ের এমন অবস্থা হত, অফিসের পরে বাড়িতে ফিরে পোশাক বদলের শক্তিটুকুও আর থাকত না। এমনকী, উইকএন্ডেও কাজ দেওয়া হত ওঁকে। অফিসিয়াল ডিউটি ছাড়াও মৌখিকভাবে ওঁকে অন্য কাজ করতে বলা হতো। আমি অনেকবার বারণ করেছি ওঁকে অতিরিক্ত চাপ নিতে। ওঁর বিশ্রামের সময়ই ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘একবার বস ওঁকে ফোন করে রাতে একটি কাজ দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন পরদিন সকালের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। অ্যানা অফিসে তাঁর সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও সুবিধা পায়নি। বাড়িতে রাত জেগে অফিসের কাজ করার পর বিধ্বস্ত হয়ে পড়ত। ডেডলাইনের ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত। কিন্তু ও কখনও হাল ছাড়েনি। আমরা ওঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। ও আরও সফল হতে চেয়েছিল। বুঝতে পারেনি এত কাজের চাপ চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে।’

অনিতা অগাস্টিনের কথায়, ‘আমার মেয়ের মৃত্যু এই ধরনের সংস্থাগুলির কাছে চোখ খুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। ওয়ার্ক কালচার নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত কোম্পানিগুলির। কর্মীদের শরীর-স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।’

দ্ধবপন্থী শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে লেখেন, ‘আমি ভারাক্রান্ত। অ্যানার এটা প্রাপ্য ছিল না। ওঁর মায়ের হৃদয় বিদারক ইমেল কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ভাবতে বাধ্য করবে। মানসিক স্বাস্থ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের বুঝতেই হবে। ছাত্র জীবন থেকে সদ্য কর্মজগতে পা রাখছেন তাঁরা। ফলে সংস্থাগুলিকে আরও মানবিক হতে হবে।’