স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের ‘সম্পত্তি’, খুনের কেসে রায় দিলো হাইকোর্ট

দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রাক্তন স্বামীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত ছিলেন এক মহিলা। আর এই ঘটনায় দেখে ফেলেন তার বর্তমান স্বামী। আর তারপরেই রাগের মাথায় খুন করেন স্ত্রীর প্রাক্তন স্বামীকে। আর এই খুনের মামলার রায় দিতে গিয়ে এক রায় দিলো মেঘালয় আদালত।

আদালত বলেছে ‘‘এমনকি মহাকাব্য রামায়ণেও বলা হয়েছে সীতাকে তাঁর সতীত্ব প্রমাণ করার জন্য রামের সামনে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। কোনও পবিত্র সম্পর্কে, স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তি। এক জন যদি অন্য জনের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তা হলে তাৎক্ষণিক আবেগ বা উত্তেজনার বশে এই ধরনের (খুন) ঘটনা ঘটতে পারে।’

ফলে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে অপরাধীকে আইপিসি ৩০০ (এক্সেপশন ২) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করেছে হাইকোর্ট অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটিয়েছেন অপরাধী, তাই তাঁর ক্ষেত্রে খুনের সেকশন (IPC ৩০২) প্রযোজ্য নয়।

জানাগেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি ফিরে দেখেন তার স্ত্রী তার প্রাক্তন স্বামীর সাথে যৌন ক্রিয়ায় ব্যস্ত। আর সেই ঘটনা দেখে উত্টেজিত হয়ে ও রাগের মাথায় অনিচ্ছাকৃত ভাবে খুন করেন তার স্ত্রীর প্রাক্তন স্বামী কে।

মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সওয়াল-জবাব শুনে বলে, এখানে স্ত্রী বিশ্বাসভঙ্গের কাজ করেছেন। তিনি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।সেটা তিনি আইনত করতে পারেন না। এটি ২০০০ সালের ঘটনা

প্রধান বিচারপতি এস বৈদ্যনাথনের কথায়, ‘মানবজীবন অনেকটা বাই-সাইকেলের মতো। সামনের চাকা স্বামী, পিছনের চাকা স্ত্রী। যে কোনও একটা চাকায় যদি সমস্যা হয়, সেটা আর সহজ ভাবে চলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জন্য, তিনি নিজেই যা স্বীকার করেছেন, পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’