বিশেষ: নেওয়া যায় না আইনি ব্যবস্থা, সংবিধানের কোন রক্ষাকবচে ‘সুরক্ষিত’ রাজ্যপাল?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। রাজভবনের এক অস্থায়ী নারী কর্মচারী এ অভিযোগ করেন।

কমপক্ষে দুই বার তার শ্লীলতাহানি করা হয় বলেই দাবি করেন ওই নারী।

এ ঘটনার তীব্র সমালোচনায় সরব তৃণমূল। তবে এ ঘটনা প্রসঙ্গে রাজভবনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। এ কী ধরনের ঘটনা ঘটছে? যেখানে বারবার প্রধানমন্ত্রী নারীশক্তির কথা বলছেন সেখানে রাজ্যপাল নারীর অপমান, অসম্মান করছেন?’

এদিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজভবনের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।

তবে বিতর্ক হলেও ও গুরুতর এই অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।

কারণ ভারতীয় সংবিধানের ৩৬১ ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল কতগুলি বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। আর সেই বিশেষ ক্ষমতা গুলি হলো –

1)পদে থাকাকালীন কোনও রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া চালানো যাবে না।

2)রাজ্যপালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কিংবা জেল হেফাজতের রায় দিতে পারবে না কোনও আদালত।

3)কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে না। এমনকী, তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও উল্লেখ করা যাবে না।

4)পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

5)নিজের কার্যক্ষমতা কিংবা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যপাল কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।

6)অনেকক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়ার পরও রাজ্যপালের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।