“স্বয়ং আম্বেদকরও আর সংবিধান বদলাতে পারবেন না”-সমালোচনার জবাব দিলেন মোদী

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পোড়াকোলা প্রভাকরের মন্তব্যে ফের অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। তিনি তার মন্তব্যের মাধ্যমে ফের আরও একবার করলেন বিস্ফোরক দাবি। তিনি বিজেপি ভারতে ফের ক্ষমতায় এলে কি হতে পারে সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
সম্প্রতি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। আর সেই ভিডিওতে তিনি বলেন ‘২০২৪ সালে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদী বসলে দেশে আর কোনও নির্বাচন হবে না। আপনারাও আর তেমনটা আশা করবেন না।’ পাশাপাশি নির্মলা সীতারমনের স্বামীর দাবি, দেশের সংবিধান এবং ভারতের মানচিত্রও বদলে যাবে ফের একবার BJP ক্ষমতায় এলে। তিনি বলেন, ‘আপনি হয়তো চিনতেই পারবেন না। দেশের সংবিধান এবং মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।’আর এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুক্রবার রাজস্থানের বারমেরে BJP-র নির্বাচনী সমাবেশে মোদী বলেন, ‘বাবাসাহেব আম্বেদকর স্বয়ং থাকলে, তিনিও আজ আর সংবিধান ধ্বংস করতে পারবেন না। সরকারের কাছে সংবিধান হল গীতা, কোরান, বাইবেল।’
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে কর্নাটকের BJP সাংসদ অনন্ত হেগড়ে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করতে হলে প্রয়োজন সংবিধানে পরিবর্তন। এবং সংবিধানে পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সেই কারণে BJP ৪০০ আসনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
তার এই মন্তব্য থেকেই শুরু হয় এই সংবিধান বদলে দেয়ার বিতর্ক।
রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অনন্ত হেগড়ের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘BJP-র ওই নেতার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৪০০ আসন প্রয়োজন। নরেন্দ্র মোদী ও সঙ্ঘ পরিবারের গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মোদীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে ধ্বংস করে দেওয়া। কারণ, BJP-র লোকেরা ন্যায়, সমতা, নাগরিক অধিকার কিংবা গণতন্ত্র সহ্য করতে পারেন না। ঘৃণা করেন। এদের লক্ষ্যই হল সমাজের বিভাজন ঘটানো। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এরা।’