নির্বাচনে বেড়েছে টাকার অঙ্ক, প্রচারে এবার প্রত্যেক প্রার্থী কত খরচ সীমা? দেখেনিন একনজরে

লোকসভা নির্বাচনের প্রচার জোরকদমে চলছে। মিটিং, মিছিল, সভা, রোড শো, দেওয়াল লিখন – সবকিছুই চলছে তুঙ্গে। আর এই প্রচারণার সাথে জড়িত প্রচুর খরচ।

নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী প্রতি খরচের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করেছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ঊর্ধ্বসীমা ছিল ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু পাঁচ বছর পর এটি ২৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ লাখ টাকা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু দল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের খরচ বেড়েছে, তাই ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা প্রয়োজনীয় ছিল।

অন্যদিকে, কিছু দল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি বড় দলগুলিকে আরও বেশি সুবিধা দেবে এবং ছোট দলগুলির জন্য নির্বাচনে লড়াই করা আরও কঠিন করে তুলবে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে নির্বাচনী খরচ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। কমিশন বিশ্বাস করে, ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করলে প্রার্থীরা অযৌক্তিক খরচ করতে দ্বিধা করবে।

তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশন বেশকিছুদিন আগই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে জানিয়ে দিয়েছিল। এরই মধ্যে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মাল সীতারমনের বক্তব্য সামনে এসেছে। তিনি বলেছেন, অর্থাভাবে নির্বাচন লড়তে পারছি না। এই প্রসঙ্গেই পুরো বিষয়টা দেখতে হবে। দেশের অর্থমন্ত্রী, যাঁর প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ আছে, তিনি বলছেন অর্থাভাবে নির্বাচনে লড়তে পারছি না। তাহলে এই ৯৫ লাখ টাকা ঊর্ধ্বসীমা কি শুধুই কাগজেকলমে? টাকা নেই বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? ৯৫ লাখ টাকা খরচের, নাকি ১০ কোটি টাকা খরচের ক্ষমতা নেই?’ একইসঙ্গে জয়প্রকাশ আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যখন ৯৫ লাখ টাকা ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করছে, সেটা কি বাস্তব নির্ভর?’ এক্ষেত্রে জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, ‘নির্মলা সীতারমনের কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এর সঙ্গে গ্রাউন্ড রিয়্যালিটির কোনও যোগাযোগ নেই।’

বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার মনে হয় ১৬ – ১৭ লাখ মানুষের একটা লোকসভায় ৯৫ লাখ টাকা বেশ কঠিন…।’ পাশাপাশি সিপিএম নেতা তথা লোকসভা ভোটের প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ৯৫ লাখ টাকা ঊর্ধ্বসীমা করে দিয়েছে। আমার বিবেচনায় এতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। নির্বাচনী প্রচারের জন্য এটা যথোচিত বলেই আমি মনে করি। এই বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। তবে যাঁরা মনে করবেন হেলিকপ্টার ঘোরান ছাড়া ভোট হয় না, আর বিলাস করা ছাড়া ভোট হয় না, বা যাঁরা মনে করবেন ভোট মানে টাকার খেলা, তাদের এতে অসুবিধা হতে পারে।’