বৈষ্ণদেবী মাতার দর্শনে যেতে হবেনা কাশ্মীর, এবার দর্শন করুন বাংলায়, শুরুও হয়েছে ৫ দিনের পুজো

বৈষ্ণদেবী মাতার দর্শন করার জন্য আর জম্মুকাশ্মীরের কাটরা যেতে হবে না! এবার নামমাত্র খরচে সিঙ্গুরের বোড়াই পহলামপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের কমলাপুর পূর্বপাড়ায় মাতার দর্শন পাওয়ার সুযোগ।

এই অচেনা গ্রামের বাসিন্দারা এখন মেতে উঠেছেন বৈষ্ণদেবী মাতার আরাধানায়। এলাকার মোট সাতটি পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা এখন তুঙ্গে।

সাতটি পুজোর মধ্যে একটি মন্দিরে রয়েছে পাথরের বিগ্ৰহ। বাকি ৬ জায়গায় প্রতিমায় পুজো করা হয়। শরৎকালে দুর্গাপুজোর সময় তিথি ধরে, ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষে একই সময়ে একই তিথিতে আয়োজিত হয় এখানকার বৈষ্ণদেবী মাতার পুজো।

ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে হয় বোধন। তারপর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী, মোট পাঁচ দিন ধরে এখানে পূজিতা বৈষ্ণদেবী মাতা। বাঘের উপর অধিষ্ঠিত্রী দেবী এখানে আটহাত বিশিষ্ট। দেবীর প্রত্যেক হাতেই অস্ত্র। প্রায় ৪০ বছর ধরে ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষে এখানে একইরকম উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী।

পুজোর সময় ভিন রাজ্যে কর্মরত যুবকেরা বাড়ি ফিরে আসেন। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই আসেন আত্মীয়স্বজনেরা। পুজোকে ঘিরে ক’টা দিন ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয় এলাকায়।

কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ বৈষ্ণদেবীর মাতার পুজো হয় কেন?

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বহু বছর আগে গ্রামের কয়েকজন যুবক ভিন রাজ্যে কর্মরত অবস্থায় জম্মু কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে বৈষ্ণদেবী দর্শন করে ছবি নিয়ে ফেরেন তারা। পরবর্তীকালে সেই ছবি ধরে একটি ক্লাবের উদ্যোগে প্রথম শুরু হয় বৈষ্ণদেবী মাতার আরাধনা। পরবর্তীকালে সেই পুজোকে কেন্দ্র করে একের পর এক নতুন পুজো শুরু হয় সিঙ্গুরের পহলামপুর পূর্বপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রসেনজিৎ কোলে বলেন, “আমাদের পরিবারের বাবা-কাকারা সোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত, বাইরে থাকেন। অনেকদিন আগে তাঁরা কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে এই পুজো দেখেন। তারপর এখানে ফিরে এসে এই পুজোর প্রচলন করেন। বর্তমানে এটাই এখানকার প্রধান পুজো।”