“এবার কি এক দেশ এক ভোট?”-রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পেশ করলো কমিটি

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কমিটি বৃহস্পতিবার ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি বিষয়ে ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার আগে এই পদক্ষেপ নেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ:
কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির বিরোধিতা করছে।তাদের মতে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মোদি সরকার এই নীতি নিয়ে ঘুরপথে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে।
মোদি সরকারের যুক্তি:
লোকসভার সঙ্গেই সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট সেরে ফেলার পক্ষে মোদি সরকার।তাদের যুক্তি, ‘এক দেশ এক ভোট’ চালু হলে নির্বাচনের খরচ কমবে।
একটি ভোটার তালিকাতেই দু’টি নির্বাচন হওয়ায় সরকারি কর্মীদের তালিকা তৈরির কাজের চাপ কমবে।ভোটের আদর্শ আচরণ বিধির জন্য বার বার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকবে না।নীতি আয়োগ, আইন কমিশন, নির্বাচন কমিশনও এই ভাবনাকে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
আগামী পদক্ষেপ:
রাষ্ট্রপতি মুর্মু রিপোর্টটি পর্যালোচনা করবেন এবং তারপর সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।লোকসভা নির্বাচনের আগে এই নীতি বাস্তবায়িত করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিতর্কের কারণ:
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ছোটো রাজ্যগুলির ভয়, বড়ো রাজ্যগুলির প্রভাব তাদের উপরে বেড়ে যাবে।আঞ্চলিক দলগুলির আশঙ্কা, এই নীতি তাদের প্রভাব কমিয়ে দেবে।এই বিতর্কের সমাধান কীভাবে হবে তা এখনও দেখার বাকি।