China: ফের কমল চিনের জনসংখ্যা! সরকারের বাড়ছে চিন্তার ছায়া

চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে দ্বিতীয়বার অবনতি ঘটেছে। ২০২৩ সালে চিনের জনসংখ্যা আগের বছরের থেকে ২০.৮ লক্ষ কমে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চিনের জনসংখ্যা ১৪০.৯ কোটি, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

চিনের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের (NBS) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চিনে প্রতি হাজারে জন্মের হার ৬.৩৯ ছিল, যা গত বছর ছিল ৬.৭৭। এর অর্থ হল, প্রতি বছর চিনে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় ৪০% কম।

জন্মের হার কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হল, চিনের দম্পতিরা সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এর কারণগুলি হল:

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি
কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খরচ বৃদ্ধি
একক সন্তান নীতির প্রভাব

জন্মের হার কমে যাওয়ার ফলে চিনের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী (১৬-৫৯ বছর) কমে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে চিনের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০৫.৭ কোটি ছিল, যা গত বছরের তুলনায় ১.০৮ কোটি কম। অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্বদের সংখ্যা এক বছরে বেড়েছে ১.৬৯ কোটি।

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার ফলে চিনের অর্থনীতিতে ধাক্কা পড়তে পারে। কারণ, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই হল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

চীনের সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২০১৫ সালে এক সন্তান নীতি বাতিল করে দিয়েছিল তারা। পরে একাধিক সন্তানের জন্য সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করে। তবে এই পদক্ষেপগুলি এখনও পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান না করতে পারলে চিনের অর্থনীতি ও সমাজের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।