উড়ানের মাঝেই শৌচাগারে ভয়ঙ্কর চিরকুট! “ঠিক সাড়ে ৬টায় বিমান হাইজ্যাক হবে”, হুলস্থুল আকাশে!

শনিবার বিকেলে বেঙ্গালুরু থেকে লখনউগামী ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমানে আচমকা বিমান ছিনতাই বা হাইজ্যাকের রক্তহিম করা হুমকিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চঞ্চলতা ও চরম আতঙ্ক ছড়াল। উড়ন্ত বিমানের শৌচাগারের ভেতর হাতে লেখা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হুমকি চিরকুট উদ্ধার হওয়ার পর তড়িঘড়ি বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়।
জানা গিয়েছে, ইন্ডিগোর ‘6E 451’ নম্বর উড়ানটি শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে মোট ১৭৮ জন যাত্রী নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে লখনউয়ের উদ্দেশ্যে আকাশে পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানের শৌচাগারে একটি হাতে লেখা কুখ্যাত চিরকুট কেবিন ক্রুদের নজরে আসে। সেই চিরকুটে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে লেখা ছিল, “ঠিক ৬টা ৩০ মিনিটে এই বিমানটি হাইজ্যাক হতে চলেছে।” বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিমানকর্মীরা বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট উঁচুতলার আধিকারিকদের সতর্ক করেন। এভিয়েশন নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে বিমানের পাইলট তৎক্ষণাৎ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি (ATC)-এর সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে তড়িঘড়ি উড়ানটি মাঝ আকাশ থেকেই ঘুরিয়ে পুনরায় বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানটি বেঙ্গালুরুতে সফলভাবে জরুরি অবতরণ করার পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। এরপর এভিয়েশন সিকিউরিটির নির্ধারিত সূচি মেনে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী এবং বোম্ব স্কোয়াড পুরো বিমানটিতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। পাশাপাশি, কোন মানসিকতার যাত্রী বা ব্যক্তি এই চিরকুটটি লিখে শৌচাগারে রেখে আতঙ্ক তৈরি করেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমস্ত যাত্রীকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
ঘটনার পর ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে একটি সাংবাদিক বিবৃতি জারি করে এই নিরাপত্তাজনিত হুমকির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র জানান, “নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) মেনে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল। কঠোর প্রোটোকল মেনে যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে পাইলটরা বিমানটিকে উৎসস্থলে ফিরিয়ে আনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।” এই অনভিপ্রেত ঘটনার ফলে যাত্রীদের চলাচলে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার জন্য আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে ইন্ডিগো জানিয়েছে, সুরক্ষিত ছাড়পত্র মেলার পরেই বিমানটিকে পুনরায় গন্তব্যে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, এই রোমহর্ষক ঘটনার ঠিক একদিন আগেই দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর আরও একটি বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার মুহূর্তে শৌচাগারে ঠিক একই ধরনের চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছিল। পরপর দুটি বিমানে এমন রহস্যময় চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান সুরক্ষায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।