সুপ্রিম কোর্টে মামলা রাজ্য সরকারের! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ নিয়ে কেন শীর্ষ আদালতে নবান্ন?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক মামলায় আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ ফের চড়ল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে কেন একসঙ্গে একাধিক এফআইআরে ‘সুরক্ষাকবচ’ বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করল রাজ্য সরকার নিজেই। দীপাবলির ছুটির পর শীর্ষ আদালতে এই আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

হাইকোর্টের রায় ও আগামী শুনানির দিনক্ষণ:

গত ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলায় কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারির মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টে আগামী ২৩ নভেম্বর ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু সেই শুনানির ঠিক ২৩ দিন আগেই রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

অভিষেকের অভিযোগ ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ ছিল, ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে এবং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একের পর এক থানায় ভুয়া অভিযোগ দায়ের করছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশ সেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই দ্রুত এফআইআর দায়ের করছে। এমনকি ৪, ৫ বা ৬ বছর আগের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেও বর্তমান সময়ে এফআইআর করা হচ্ছে।

অভিষেকের এই আবেদনের শুনানি চলাকালীন গত ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কড়া অবস্থান নিয়ে রাজ্য পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “ভবিষ্যতে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আবার কোনও অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের হয়, তবে আদালত বাধ্য হয়ে তাঁকে সামগ্রিক রক্ষাকবচ দেবে।” আপাতত বিষ্ণুপুর থানার দু’টি এবং রবীন্দ্রনগর থানার একটি—মোট ৩টি এফআইআরের ভিত্তিতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তবে পাশাপাশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পাল্টা পদক্ষেপ:

হাইকোর্টের দেওয়া এই ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা ঢালাও সুরক্ষাকবচ দেওয়ার আইনি যৌক্তিকতা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে রাজ্যের প্রশ্ন—কোন যুক্তিতে একজন অভিযুক্তকে একসঙ্গে একাধিক মামলায় এভাবে ঢালাও সুরক্ষাকবচ প্রদান করা হলো? দীপাবলির ছুটি শেষে সুপ্রিম کورٹ এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও শুনানির তারিখ স্থির করবে। এখন দেখার, শীর্ষ আদালতে অভিষেকের আইনি সুরক্ষাকবচ বহাল থাকে নাকি নবান্নের আর্জিতে মেলে নতুন কোনও নির্দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *