কালীপুজোর মুখেই বাজি বাজারে বিশাল অভিযান! নুঙ্গিতে পুলিশের সাড়াসি হানায় উদ্ধার চকলেট বোমা, আটক ২

উৎসবের মরশুমে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশিকা অমান্য করে যাতে দেদার নিষিদ্ধ শব্দবাজি না চলে, তার জন্য কালীপুজোর আগের দিন থেকেই চরম তৎপর রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। শব্দদূষণ রুখতে এবং বেআইনি বাজি কারবারিদের দমনে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সাড়াসি অভিযান। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিখ্যাত নুঙ্গি বাজি বাজারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চকলেট বোমা-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

নুঙ্গি বাজি বাজারে পুলিশের অভিযান:

ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের অধীনস্থ মহেশতলা থানার পুলিশ শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নুঙ্গি বাজি বাজারে আচমকা অভিযান চালায়। সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে এই বাজারে শব্দবাজি বিক্রি হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ বাজি কেনাবেচা রুখতে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কালীপুজো ও দেওয়ালির রাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শব্দদূষণ রুখতে এমন কড়া অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা, নিরাপত্তা জোরদার মণ্ডপে:

অন্যদিকে, সম্প্রতি চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কালীপুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে রাজ্য সরকার। উৎসবের রাতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার নামজাদা পুজো মণ্ডপগুলিতে পুলিশ ও দমকল বিভাগ যৌথভাবে বিশেষ ইন্সপেকশন শুরু করেছে।

পরিদর্শনে ডিজি-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা:

দমকলের ডিজি এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন। মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত আলো, প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরোনোর জন্য ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ বা আপৎকালীন পথ ঠিকমতো রাখা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মণ্ডপগুলিতে কোনও আলাদা ‘ভিআইপি প্রবেশপথ’ রাখা যাবে না। দর্শনার্থীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ও মসৃণ রাখাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। চোরবাগানের মতো ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই জন্য কালীপুজোয় ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন লালবাজার ও রাজ্য পুলিশের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *