রুট চালু হতেই টিকিটের হাহাকার! ফ্লাইট ছেড়ে কেন বন্দে ভারত স্লিপারে ভিড় করছেন যাত্রীরা?

ভারত সরকারের আধুনিক রেল ব্যবস্থার অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসকে ঘিরে যাত্রীদের উদ্দীপনা ও উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি চালু হওয়া বেঙ্গালুরু-মুম্বই রুটের দেশের দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস সূচনাপর্বেই এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছে। ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই ট্রেনটির সমস্ত টিকিট নিমেষের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য নগরী মুম্বই এবং প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ততম রুটে এই প্রিমিয়াম ট্রেনের আত্মপ্রকাশ ঘটার পর থেকে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছে এটি ভ্রমণের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।
গত ৩১ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে আইআরসিটিসি (IRCTC) ওয়েবসাইট ও কাউন্টারে বেঙ্গালুরু-মুম্বই বন্দে ভারত স্লিপারের (SMVT Bengaluru – CSMT Mumbai Vande Bharat Express) টিকিট বুকিং শুরু হয়েছিল। টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফার্স্ট এসি ও সেকেন্ড এসি সহ বিভিন্ন শ্রেণির تمام আসন সম্পূর্ণ বুক হয়ে যায়। যাত্রীদের এত বিপুল সাড়াকে কেন্দ্র করে ট্রেনের বিভিন্ন ক্লাসে ইতোমধ্যেই লম্বা ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয়েছে। এমনকি আগামী বেশ কিছুদিন এই রুটে কোনো আসন খালি নেই বললেই চলে। দূরপাল্লার ট্রেন যাত্রায় টিকিট কাটার সাথে সাথেই ওয়েটিং লিস্টের এমন চিত্র ভারতীয় রেলে অত্যন্ত বিরল।
যাত্রীদের এই অভাবনীয় আকর্ষণের নেপথ্যে রয়েছে ট্রেনটির অবিশ্বাস্য গতি, সময় সাশ্রয় এবং বিশ্বমানের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা। যেখানে ঐতিহ্যবাহী ট্রেনগুলিতে বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই পৌঁছাতে ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যেত, সেখানে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস এই একই পথ অতিক্রম করছে মাত্র ১৬ ঘণ্টায়। অর্থাৎ যাত্রীদের মূল্যবান ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছে এই ট্রেন। এর পাশাপাশি বিমানের চড়া ভাড়ার তুলনায় কম খরচে অতিরিক্ত আরামদায়ক ও ঝাঁকুনিহীন রাতের যাত্রা উপহার দেওয়ায় প্রচুর বিমানযাত্রীও এখন ফ্লাইটের বদলে বন্দে ভারত স্লিপারকে বেছে নিচ্ছেন।
এই ট্রেনে সর্বমোট ১৬টি অত্যাধুনিক কোচের ব্যবস্থা রয়েছে। ভাড়ার কাঠামো অনুযায়ী, থার্ড এসি কোচের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৮১০ টাকা, সেকেন্ড এসি কোচের ভাড়া ৩,৬৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির ফার্স্ট এসি কোচের ভাড়া রাখা হয়েছে ৪,৪৫০ টাকা। ট্রেনটিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজার পাশাপাশি এর্গোনমিক সিটিং, বিশ্বমানের ইন্টেরিয়র এবং পুষ্টিকর খাবারের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে (SWR) এই ট্রেনের পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।
যাত্রাপথে বেঙ্গালুরু থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ দেয়। স্টেশনগুলি হলো অনন্তপুর, গুন্টাকাল, রায়চুর, যাদগির, কালাবুরাগি, সোলাপুর, পুণে এবং কল্যাণ। সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেন নম্বর ২৭৬৫২ প্রতিদিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে বেঙ্গালুরুর এসএমভিটি (SMVT) স্টেশন থেকে রওনা দেয় এবং পরবর্তী দিন সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাসে (CSMT) পৌঁছে যায়। সপ্তাহে ছয় দিন নিয়মিত পরিষেবা প্রদান করবে এই ট্রেনটি, শুধুমাত্র প্রতি সোমবার এর সাপ্তাহিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। বন্দে ভারত স্লিপারের এই অভাবনীয় সাফল্য ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।