ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেছে? লাখ লাখ মানুষের জন্য বিরাট সুখবর দিল নির্বাচন কমিশন!

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ECI)। এতদিন পর্যন্ত যে সমস্ত ভোটারদের নাম ‘ASDD’ অর্থাৎ অনুপস্থিত (Absent), স্থানান্তরিত (Shifted), মৃত (Dead) এবং ডুপ্লিকেট (Duplicate) হিসেবে চিহ্নিত হয়ে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় তোলার জন্য এবার ফের একটি বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সচিব পবন দেওয়ানের সই করা একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে। যেসব রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে (যেমন: দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, নাগাল্যান্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও তেলেঙ্গানা), মূলত সেই এলাকাগুলির জন্যই এই শিথিলযোগ্য নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে।

ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরাতে কমিশনের বিশেষ ৪টি পদক্ষেপ:

১. নোটিশ বোর্ডে ঝুলবে বাদ পড়া তালিকা: যে সমস্ত ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Forms) জমা পড়েনি বা যাঁরা ASDD তালিকায় থাকার কারণে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন, তাঁদের বুথভিত্তিক তালিকা এবার পোলিং স্টেশনের নোটিশ বোর্ড, পঞ্চায়েত ভবন, পুরসভা বা বিডিও (BDO) অফিসে প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিইও (CEO)-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও এর পিডিএফ (PDF) তালিকা পাওয়া যাবে।

২. বাড়ি বয়ে এসে সাহায্য করবেন BLO-রা: রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-দের সাথে সমন্বয় রেখে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবেন। প্রয়োজনে প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য বা রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (RWA) সহায়তায় বাদ যাওয়া ভোটারদের ফর্ম জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবেন তাঁরা।

৩. অ্যাননেক্সার-এ (Annexure-A) ফর্মে আবেদন: বাদ পড়া ভোটাররা ERO বা AERO-র কাছে পুরোপুরি পূরণ করা ‘অ্যাননেক্সার-এ’ ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি ভোটাররা ঘরে বসেই কমিশন-নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ECINET অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

৪. ঠিকানা বদলালে নতুন করে ফর্ম-৮ নয়: রাজ্যের ভেতরেই কোনও ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকলে তাঁকে আর জটিল ফর্ম-৮ (Form-8) পূরণ করতে হবে না। নির্দিষ্ট অ্যাননেক্সার-সি (Annexure-C) সহ এনুমারেশন ফর্ম এবং ঠিকানার সামান্য প্রমাণপত্র দিলেই নাম সংশোধন হয়ে যাবে। এমনকি গৃহহীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিএলও-র ফিল্ড ভেরিফিকেশন রিপোর্টই স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

পুরোনো এপিক (EPIC) নম্বরই থাকবে বহাল

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সমস্ত আবেদন ও তথ্য সঠিকভাবে খতিয়ে দেখার পর যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাবে, তাঁদের পুরোনো বা আগের দেওয়া ইউনিক ভোটার কার্ড নম্বরটিই (EPIC Number) বহাল রাখা হবে। কোনও বৈধ নাগরিক যাতে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যদিও এই বিশেষ নিয়মটি আপাতত যে রাজ্যগুলিতে এসআইআর (SIR) চলছে সেখানকার জন্য প্রযোজ্য, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গেও এই সংক্রান্ত দাবি উঠতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রথম পর্যায়ে এএসডিডি (ASDD) হিসেবে চিহ্নিত মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ৫৮.২১ লক্ষের মধ্যে প্রায় ২৪.১৬ লক্ষ মৃত ভোটার, ১২.২০ লক্ষ অনুপস্থিত, ১৯.৮৮ লক্ষ স্থানান্তরিত এবং ১.৩৮ লক্ষের বেশি অন্যান্য স্থানে নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন। নতুন এই নির্দেশের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় নাম ফেরানোর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *