‘মেয়ের ফোনে ডেকেই শাশুড়ি-স্ত্রীসহ ৭ জনকে খুন!’ বেঙ্গালুরুর ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি

কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের সাতজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এবার এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। ক্যাব চালক অভিযুক্ত ইন্দুশেখরের এই নারকীয় চক্রান্তে জড়িয়ে পড়েছে তার নিজেরই নাবালিকা কন্যার নাম! বাবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিবারের সকলকে খতম করার ছকে মেয়েটি সরাসরি জড়িত ছিল নাকি তাকে বাধ্য করা হয়েছিল, তা এখন পুলিশি তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

শুক্রবার এই বিষয়ে এক বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। তিনি জানান, ক্যাব চালক ইন্দুশেখর নিজের কিশোরী কন্যাকে সম্পূর্ণ ‘ব্রেনওয়াশ’ বা মগজধোলাই করে এই ভয়ঙ্কর চক্রান্তে সাহায্য করতে বাধ্য করেছিল বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।

সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ও রহস্যময় উদ্দেশ্য

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনো আকস্মিক অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী সুনীতা ও তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যদের নিশানা বানিয়েছিল অভিযুক্ত। যদিও এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সম্পত্তিগত কোনো দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল, নাকি অন্য কোনো আক্রোশ লুকিয়ে রয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত ক্যাব চালক দাবি করেছে যে সে স্ত্রীর পরিবারের লোকজনের হাতে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল এবং চরম অবসাদে ভুগছিল। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্ত নিজেকে বাঁচাতে নির্যাতনের যে দাবিই করুক না কেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে না।

ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার নাবালিকা মেয়েকে!

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমানে উঠে এসেছে এক হাড়হিম চিত্র। স্বজনদের ফাঁদে ফেলতে নিজের নাবালিকা মেয়েকেই চাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল ইন্দুশেখর। মেয়েকে দিয়ে মামার বাড়িতে ফোন করিয়ে তাদের নিজেদের আস্তানায় ডেকে আনার বড়সড় আমন্ত্রণের ছক কষা হতো। সেই সরল আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আত্মীয়রা এসে পৌঁছলেই শিলনোড়া দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে তাঁদের সাবাড় করত ঘাতক বাবা।

তবে স্বজনদের ডাকার সময় মেয়েটি বাবার এই খুনখারাপির ব্লু-প্রিন্ট সম্পর্কে জানত, নাকি বাবার ভয়ে ও প্রভাবে পড়ে অন্ধের মতো আদেশ পালন করেছিল—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সবথেকে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার পর থেকেই ওই নাবালিকা মেয়েটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তার খোঁজে পুলিশ চতুর্দিকে তল্লাশি শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি মেয়েটিকে তাদের বাড়ির আশেপাশেই দেখা গিয়েছিল।

১ শিশুর দেহ উদ্ধার, ৬ লাশের সন্ধানে পুলিশ

অভিযুক্ত ক্যাব চালক ইন্দুশেখরের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি, দুই শালা, তাঁদের দুই স্ত্রী এবং সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। খুনের পর হাড়হিম কৌশলে দেহগুলি নন্দী পাহাড়ের পাদদেশের বিভিন্ন দুর্গম ও নির্জন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে আসা হয়েছিল।

এখনও পর্যন্ত পুলিশের স্পেশাল টিম কেবল ৭ বছরের অবোধ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ৬টি লাশের সন্ধানে কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *