চলন্ত ট্রেনে দাউদাউ আগুন! পাঞ্জাব থেকে এনজেপিগামী কর্মভূমি এক্সপ্রেসে পুড়ে ছাই চারটে কামরা, হুড়োহুড়ি যাত্রীদের

উৎসবের মরসুমের মাঝেই এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল পাঞ্জাব। অমৃতসর থেকে ছেড়ে আসা পশ্চিমবঙ্গগামী ১২৫০৮ কর্মভূমি এক্সপ্রেস (Karmabhoomi Express)-এর কামরা থেকে আচমকাই ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। ট্রেনের পর পর চারটি কামরা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজপুরার কাছে চলন্ত ট্রেনে বিপত্তি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার রাজপুরা এলাকার সরাই বাঞ্জারা স্টেশনের কাছে শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি যখন সম্পূর্ণ চলন্ত অবস্থায় ছিল, ঠিক তখনই ইঞ্জিনের ঠিক পরের পঞ্চম কামরাটিতে প্রথম আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার পাশের আরও তিনটি কামরায়।
কামরার ভিতরে যাত্রীরা প্রথমাবস্থায় ধোঁয়া দেখতে পেয়েই চিৎকার শুরু করেন। এরপর আগুনের ভয়াবহ রূপ দেখে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন আতঙ্কিত যাত্রীরা। বহু যাত্রী নিজেদের ব্যাগপত্র ট্রেনের ভেতরে রেখেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল ট্রেনের একাধিক কামরা থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উঠছে।
পরিস্থিতি ও তদন্তের নির্দেশ
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ট্রেনের কামরাগুলি থেকে অনবরত আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। আম্বালা ডিভিশনের এক সিনিয়র রেল আধিকারিক জানিয়েছেন, সৌভাগ্যবশত এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রীর মৃত্যুর খবর নেই। তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা। পাটিয়ালার ডিসি হিমাংশু আগরওয়াল প্রাথমিক অনুমান হিসেবে প্যান্ট্রি কার থেকে আগুন ছড়ানোর কথা বললেও, রেল পুলিশের এসএইচও গুরপ্রীত সিংহ জানিয়েছেন যে একটি কামরার ফ্যানের শর্ট সার্কিট থেকেই প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং সেখান থেকেই তা দ্রুত অন্য তিনটি কামরায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেল বিভাগ।