৫০০ টাকার ২৮০টি বান্ডিল! টাটানগর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে টাকার পাহাড় দেখে চোখ কপালে সবার

যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে উদ্ধার হলো চোখ কপালে তোলার মতো নগদ টাকা। খড়গপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশনে এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওই সন্দেহভাজন যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার একাধিক বান্ডিল উদ্ধার করতে দেখা যাচ্ছে জিআরপি আধিকারিকদের।

ধৃত ওই ব্যক্তির নাম রাহুল সোনি (৩৬), যিনি হাওড়ার বাসিন্দা। টাটানগর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে চেপে তিনি হাওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সপক্ষে তিনি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা সদুত্তর দিতে না পারায় তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই আটক করে পুলিশ।

যেভাবে ধরা পড়ল রহস্যময় যাত্রী

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খড়গপুর স্টেশনের হাওড়া এন্ডের কাছে ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওই যাত্রীকে অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন ডিউটিরত জিআরপি আধিকারিকরা। সাব-ইন্সপেক্টর তরুণ কিশোর জেনার নেতৃত্বে যখন রুটিন তল্লাশি চলছিল, তখনই তাঁদের নজরে আসেন রাহুল সোনি। তাঁর পিঠে একটি নীল ব্যাকপ্যাকের পাশাপাশি দুটি ভারী হ্যান্ডব্যাগ ঝোলানো ছিল।

পুলিশের একটি দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এগিয়ে গেলে রাহুল হকচকিয়ে যান এবং প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরে আটক করেন। এরপরেই তাঁর যাত্রাপথ এবং অন্যান্য বিষয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনে সন্দেহ আরও গভীর হয়। ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে ৫০০ টাকার মোট ২৮০টি বান্ডিল, যার মোট পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।

ডিজিটাল নথিপত্র এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

টাকা উদ্ধারের পরই ঘটনাস্থলে টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আসা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে রাজ্যের অফিসিয়াল ‘ই-সাক্ষ্য’ পোর্টালে তা ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা হয়। খড়গপুর জিআরপিএস-এর ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমস্ত আইনি নথিপত্র তৈরি করে নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর খড়গপুরের সুপারিনটেনডেন্ট অফ রেলওয়ে পুলিশ (এসআরপি) জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় একটি সরকারি বিবৃতিতে জানান, “খড়গপুর স্টেশনে এক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে ১.৪ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং টাকার উৎস জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

পুলিশের তরফে রাহুল সোনির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩১৭(২), ৩১৭(৫) এবং ৬১(২) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এত বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা বহনের বৈধ কোনো কারণ দেখাতে না পারায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি, এই টাকার আসল উৎস, এর আসল মালিক কে এবং কোথায় এই অর্থ পাচার করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আয়কর দফতরকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত তথ্য জানিয়েছে জিআরপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *