“থানায় বসে ভুয়ো হলফনামায় সই!” ঋতব্রতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি অভিষেকের, তোলপাড় বাংলা

রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন বিস্ফোরণ! ডায়মন্ড হারবারের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) বিরুদ্ধে মারাত্মক জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, পুলিশ থানায় বসে ঋতব্রতর নামাঙ্কিত ভুয়ো হলফনামা নিজে হাতে ফিল-আপ ও সই করে জমা দিয়েছে। আর এই সমগ্র ঘটনার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ নাকি গচ্ছিত রয়েছে তাঁর কাছে। সেই ভিডিও যথাসময়ে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের দরবারে জমা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।

“পুলিশের সাজানো চিত্রনাট্য, ভিডিও রয়েছে আমার কাছে”
বৃহস্পতিবার রাতে কালীঘাটের বাসভবনের সামনে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা ও বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তোপ দাগেন অভিষেক।

সাংসদের অভিযোগ, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে টাকা উদ্ধারের যে ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে পুলিশের তৈরি করা একটি সাজানো চিত্রনাট্য। তাঁর দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসি-র (IC) গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েই পরিকল্পিতভাবে ওই টাকা সেখানে রেখে আসা হয়েছিল।

এরপরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন:

“ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শুনে রাখুন, শুধু ডায়মন্ড হারবারের ঘটনার ভিডিও নয়, পুলিশ যে থানায় বসে আপনার নামের হলফনামা ফিল-আপ ও সই করেছে, সেই ভিডিও ফুটেজও আমার হাতে রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং কমিশনের কাছে এই ভিডিও যাবে। থানায় বসে একজন নেতার নামের হলফনামা পুলিশ সই করছে— এটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয়।”

তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতা ও সাহস থাকলে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করুন। আমি হাইকোর্টে যাব এবং সেখানে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ জমা দেব। ভুয়ো হলফনামা জমা দেওয়ার দায়ে ঋতব্রতের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। এই জালিয়াতিতে যতদিন উনি বাঁচবেন, ততদিন জেলে কাটাতে হবে। কেউ বাঁচাবে তো?”

“সবটাই মেঠো রাজনীতি আর নাটক!”— পাল্টা তোপ ঋজু ও দিলীপ ঘোষের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক বয়ানের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিষেকের এই অভিযোগকে স্রেফ ‘নাটক’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে কটাক্ষ করেছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ঋজু দত্ত।

ঋজু দত্ত বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে কেবল ফাঁকা বুলি। ওঁর সঙ্গে বর্তমানে মেঠো রাজনীতির কোনো ন্যূনতম যোগাযোগ নেই। উনি তো ঘর থেকেই বেরোতে পারছেন না, ওঁর রাজনীতি এখন কেবল আদালত কক্ষের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ। নিজের মাথার ওপর পিসির হাত না থাকলে উনি কোনোদিন সাংসদও হতে পারতেন না। যদি ওঁর কাছে সত্যিই কোনো ভিডিও ফুটেজ থেকে থাকে, তবে তা আদালতের অপেক্ষায় না রেখে অবিলম্বে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে বাংলার মানুষকে দিন।”

অন্যদিকে, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “যদি ওঁর কাছে সঠিক তথ্যপ্রমাণ থাকে, তবে আদালতের দরজা খোলা রয়েছে, সেখানে গিয়ে জমা দিন। কার টাকা কোথায় জমানো থাকে, তা এই রাজ্যের সমস্ত মানুষ ভালো করেই জানেন। এবার তো ওঁর নিজের লোকই গোপন হাঁড়ি হাটে ভেঙে দিচ্ছেন। আগামী দিনে আরও অনেক নাম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে।”

সব মিলিয়ে, পুলিশ-রাজনীতিক আঁতাত এবং ভুয়ো হলফনামার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *