AM নাকি PM? ট্রেন বা বিমানের টিকিটে কেন ১৩.৩০ কিংবা ২৩.১০ লেখা থাকে? জানলে চমকে যাবেন!

প্রতিদিনের জীবনযাপনে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা সাধারণত ১২ ঘণ্টার ঘড়ির সময়সূচিতেই অভ্যস্ত। তবে ট্রেন কিংবা বিমানের টিকিট কাটতে গেলেই চোখে পড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র!

রেল ও এয়ারলাইন্সের টিকিট কিংবা সময়সূচিতে সকাল, দুপুর বা রাত বোঝাতে কোথাও ‘AM’ বা ‘PM’ লেখা থাকে না। তার পরিবর্তে দেখা যায় ১৩:৩০, ১৮:৪৫ কিংবা ২৩:১০-এর মতো সময়। কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে কি, কেন সমস্ত বিশ্বজুড়ে ট্রেন ও বিমান সংস্থাগুলি এই ২৪ ঘণ্টার ঘড়ির নিয়মই মেনে চলে? এর নেপথ্যে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত কিছু কারণ।

কেন সাধারণ ১২ ঘণ্টার ঘড়িতে বিভ্রান্তি ঘটে?

সাধারণ ১২ ঘণ্টার ঘড়িতে দিনে একই সময় দু’বার ঘুরে ফিরে আসে। উদাহরণস্বরূপ—সকাল ৬টা এবং সন্ধ্যা ৬টা, সাধারণ ঘড়িতে দুটোই ‘৬টা’ দেখায়। যদি সময়সূচিতে ভুলবশত ‘AM’ বা ‘PM’ উল্লেখ না থাকে, তবে মুহূর্তেই মারাত্মক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাত ১২টা বা ভোরবেলার ট্রেন-ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণ যাত্রীদের ভুল করার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

২৪ ঘণ্টার ঘড়ির আসল সুবিধা কী?

২৪ ঘণ্টার সময়সূচিতে দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে একটি নির্দিষ্ট ও অনন্য সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

  • রাত ১২টা সূচনা হয় ০০:০০ দিয়ে।

  • দুপুর ১২টার পরের এক ঘণ্টাকে লেখা হয় ১৩:০০, দুপুর ২টো হয় ১৪:০০ এবং এভাবেই চলতে চলতে দিনের শেষ মিনিটটি নির্দেশ করা হয় ২৩:৫৯ দিয়ে।

ফলে সময়সূচিতে ‘AM’ বা ‘PM’ সংক্রান্ত কোনো অনিশ্চয়তা বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগই থাকে না।

রেলওয়েতে ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি চালুর ঐতিহাসিক কারণ

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯ শতক থেকে বিশ্বজুড়ে রেলপথের বিস্তার ঘটার সময় থেকেই এই আন্তর্জাতিক সময় পদ্ধতি চালু হয়। সে যুগে আধুনিক ঘড়ির উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে; মানুষ মূলত সূর্যের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করত। ফলে এক শহর থেকে অন্য শহরে সময় বদলে যেত, যা দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বিরাট বড় সমস্যার সৃষ্টি করত। প্রতিটি ট্রেনের সঠিক ও নিখুঁত সময়সূচি বজায় রাখতেই বিশ্বব্যাপী ২৪ ঘণ্টার ঘড়ির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।

বিমান পরিষেবানির্ভর ‘টাইম জোন’ ও বৈশ্বিক সমন্বয়

উড্ডয়ন ও বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আলাদা আলাদা ‘টাইম জোন’ (Time Zone) থাকে।

এমন অবস্থায় পাইলট, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে সময়ের সঠিক সমন্বয় রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি ব্যবহার করার ফলে আন্তঃদেশীয় উড়ানের সময় নিয়ে কোনো রকমের বিভ্রান্তি ঘটে না, যা সার্বিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট ভূমিকা পালন করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *