“১০০০ কোটি টাকায় সাজবে মঠ-মন্দির!” মোদীর ধাঁচে রাজ্যে মেগা ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’-এর ঘোষণা শুভেন্দুর

উৎসবের মরসুমে রাজ্যবাসীকে বিশাল উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সমস্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মঠ-মন্দির সংস্কার এবং নতুন রূপ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক মেগা উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজো উদ্বোধনে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর জন্য এক লপ্তে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
কালীপুজোর মতো শুভ লগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ (Tirthakshetra Circuit)-এর মতো নজিরবিহীন মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করলেন তিনি।
কী এই ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’?
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে তীর্থ সার্কিটের বিষয়ে সবিস্তারে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে কেদারনাথ ধাম, বদ্রীধাম, অযোধ্যা ধাম, কাশী-বেনারস এবং উজ্জ্বয়িনীর মহাকাল মন্দিরকে নতুন রূপ দিয়েছেন, ঠিক সেই আদলেই পশ্চিমবঙ্গে কাজ হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা বাদ দিয়ে রাজ্যের দেবোত্তর সম্পত্তি, ট্রাস্ট এবং প্রাচীন সার্বজনীন মঠ-মন্দিরগুলিকে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরোপুরি সংস্কার ও নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে। এর ফলে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে অর্থব্যবস্থাও চাঙ্গা হবে।
জগদ্ধাত্রী ও রাস উৎসবের বিশেষ প্রস্তুতি. Source: Wikipedia
জগদ্ধাত্রী পুজো, রাস ও গঙ্গাসাগর নিয়ে মেগা প্ল্যান
কালীপুজোর পর আগত জগদ্ধাত্রী পুজো এবং রাস পূর্ণিমা নিয়েও রাজ্য সরকারের মেগা পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী:
চন্দননগর ও কৃষ্ণনগর: জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরকে বিশেষ আলো ও সৌন্দর্যায়নে সাজিয়ে তোলার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এই দুই শহরের পুজো উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন।
নবদ্বীপ, শান্তিপুর ও কোচবিহার: রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে শ্রীচৈতন্যদেবের স্মৃতিধন্য নবদ্বীপ, শান্তিপুর এবং উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক কোচবিহার শহরকে বিশেষ আলোকমালায় মুড়ে ফেলা হবে। আগামী ২২ তারিখ তিনি নিজে নবদ্বীপে গিয়ে প্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের ধামে ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
আন্তর্জাতিক গঙ্গাসাগর মেলা: এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলার মর্যাদা দিয়ে সরকার ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে।
নারী সুরক্ষা ও বিসর্জন বিতর্ক নিয়ে অতীত সরকারকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ
নদীয়ার হাঁসখালির পুরনো প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্যের শেষভাগে নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত ছিলেন না এবং উৎসব পালনেও ছিল নানা নিষেধাজ্ঞা।
বিগত সরকারের জমানার খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জনে বাধা দেওয়া হতো, শোভাযাত্রায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতেও ছিল নানাবিধ নিষেধ। আগে যেখানে রাজ্যে ১৩ হাজার পুজো হতো, সেখানে এখন বাধা তুলে দেওয়ায় তা বেড়ে ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে।” এবার রাজ্যের কোথাও পুজো বা উৎসবে কোনো রকম বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।