ভূত চতুর্দশীতে কখন জ্বলবে ১৪ প্রদীপ? বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস মতে সঠিক শুভ সময় জেনে নিন

দুর্গাপুজোর ঢাকের আওয়াজ আর লক্ষ্মীপুজোর আলপনা পর্ব মিটতে না মিটতেই বাঙালির ঘরে আবার উৎসবের মেজাজ। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে আলোর উৎসব দীপাবলি ও শ্যামাপুজো। আর কালীপুজোর আগের দিন সন্ধে মানেই তো বাড়ির চারপাশ চোদ্দো প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় ভরিয়ে তোলার চিরাচরিত প্রথা। ছোটবেলার সেই দিনগুলির কথা মনে পড়ে? অন্ধকার নামলেই ঘরের আনাচে-কানাচে আর বারান্দায় প্রদীপ সাজানোর সেই ব্যস্ততা! কিন্তু প্রদীপ ঠিক কখন জ্বালাবেন কিংবা চতুর্দশী তিথি কখন শুরু হচ্ছে— এই নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ভূত চতুর্দশীর একদম সঠিক সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।
কেন জ্বালানো হয় চোদ্দো প্রদীপ ও খাওয়া হয় ১৪ শাক?
প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর এই বিশেষ সন্ধেতেই পিতৃপুরুষরা মর্ত্যে নেমে আসেন। কার্তিক মাসের অমাবস্যার ঘুটঘুট অন্ধকার ফুঁড়ে তাঁদের নিজেদের ভিটের পথ দেখাতে এবং অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই আলোর রোশনাই জ্বালানো হয়। পাশাপাশি, এই দিন দুপুরে নিয়ম মেনে পাতে চোদ্দো শাক পরিবেশন করার সাবেকি রীতি আজও বাঙালির ঘরে ঘরে বহমান।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা কী বলছে?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ২১ কার্তিক, ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ নভেম্বর (শনিবার)।
তিথি শুরু: ৭ নভেম্বর, শনিবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে।
তিথি শেষ: ২২ কার্তিক, ৮ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার সময়কাল
বাংলার বহু বনেদি বাড়ি ও সাবেকি পুজো মণ্ডপে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মেনে যাবতীয় আচার পালন করা হয়। এই পঞ্জিকা মতে ভূত চতুর্দশীর সময়সূচি হলো:
তিথি শুরু: ২০ কার্তিক, ৭ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে।
তিথি শেষ: ২১ কার্তিক, ৮ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে।
দুটি পঞ্জিকার হিসেবে সময়ের কয়েক মিনিটের সামান্য তারতম্য থাকলেও আচার পালনে কোনো বাধা নেই। সময়সারণী পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল এবং সন্ধেবেলাতেই চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানো সহ যাবতীয় মূল আচার পালন করতে হবে। তাই আর দেরি না করে পঞ্জিকার সময় মিলিয়ে এখন থেকেই মাটির প্রদীপ ও চোদ্দো শাকের প্রস্তুতি সেরে ফেলুন। আলোর রোশনাইতে কেটে যাক পরিবারের সব অশুভ শক্তি ও অন্ধকার।