১১ বছর চাকরি করার পর এক ধাক্কায় রাস্তায়! গ্রুপ ডি-র রেজাল্ট আসতেই ১,০০০ শিক্ষাকর্মীর চিরতরে স্বপ্নভঙ্গ

বিগত আমলের মেগা নিয়োগ দুর্নীতির খেসারত দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেলেন রাজ্যের এক হাজারেরও বেশি যোগ্য শিক্ষাকর্মী। ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়ার দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার চিরকালের জন্য তাঁদের চাকরির দৌড় শেষ হয়ে গেল। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, চাকরি বাঁচানোর তাগিদে নতুন পরীক্ষায় বসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত গ্রুপ ডি (Group D) পরীক্ষার ফলাফলে চড়া কাট-অফের সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে না উঠে ছিটকে গেলেন হাজারেরও বেশি কর্মী।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, জীবনের সেরা সময়টা স্কুলে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে পার করে দেওয়ার পর বয়সের কোপ থাকায় এই শিক্ষাকর্মীরা ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।
গ্রুপ ডি-র ফলাফলেই স্বপ্নভঙ্গ: কী বলছে পরিসংখ্যান?
সোমবার প্রকাশিত গ্রুপ ডি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মোট ৫,৪৮৮টি শূন্যপদের বিপরীতে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রায় ২৭,০০০ জন প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের অভিজ্ঞতার জন্য বিশেষ নম্বর যোগ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৬ সালের বহু যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষাকর্মী নতুন প্রার্থীদের সঙ্গে চড়া কাট-অফে তাল মেলাতে পারেননি।
জোনভিত্তিক কাট-অফ এতটাই চড়া ছিল যে, দীর্ঘ ২ বছর ধরে বেতন না পাওয়া এবং স্কুল থেকে দূরে থাকা শিক্ষাকর্মীরা পরীক্ষায় বসেও ছিটকে যেতে বাধ্য হন। শুধু তাই নয়, বহু নতুন ‘যোগ্য’ প্রার্থীরও অভিযোগ, ভালো নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও চড়া কাট-অফের কারণে তাঁরা ইন্টারভিউ তালিকায় জায়গা পাননি।
“সব শেষ!”— হাহাকার চাকরিহারাদের গলার স্বরে
দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকা এবং নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখার এই লড়াইটা শুরু থেকেই অসম ছিল বলে অভিযোগ করছেন চাকরিহারারা।
আক্রান্ত শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডল ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আমরা নতুন সরকারের কাছেও বারবার গিয়েছিলাম। অনুরোধ করেছিলাম যাতে অভিজ্ঞ ও যোগ্যদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তা করা হয়নি। পরীক্ষা নিল এবং প্রথম রেজাল্টেই দেখা গেল ১,০০০ জন যোগ্য কর্মী সরাসরি বাদ পড়ে গেলেন। এখনও অনেকগুলো ধাপ বাকি, শেষ পর্যন্ত হয়তো দেখা যাবে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিক্ষাকর্মী কোনোক্রমে চাকরি বাঁচাতে পেরেছেন।”
একইভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক প্রতিনিধি চিন্ময় মণ্ডল। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! প্রায় দুই বছর ধরে ওঁরা স্কুলে যেতে পারছেন না, মাইনে বন্ধ। এই মানসিক উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে পড়ালেখা করে পরীক্ষা দেওয়া ভীষণ কঠিন। শিক্ষাকর্মীরা তো সারাদিন স্কুলের নানাবিধ কাজে যুক্ত থাকেন। যাঁরা এই কাট-অফ ক্লিয়ার করতে পারলেন না, মানবিক খাতিরে সরকার নিশ্চয়ই তাঁদের জন্য অল্টারনেটিভ কিছু চিন্তাভাবনা করবে।”
পেশাগত জীবনের মোড়ে এসে এমন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এখন বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে অন্য কোনো বিকল্প পেশা বা জীবিকার সন্ধান শুরু করতে হচ্ছে এই হাজারেরও বেশি শিক্ষাকর্মীকে।