মৃত্যুর পরও বাঁচবে প্রাণ! অঙ্গদানে সচেতনতা বাড়াতে এবার সরাসরি রাজ্যের স্কুলগুলিতে বড় উদ্যোগ

মৃত্যুর পরেও নিজের অঙ্গদানের মাধ্যমে অন্য কারও জীবন বাঁচানোর সুযোগ রয়েছে। একজন সচেতন মানুষের অঙ্গদানে নতুন জীবন পেতে পারেন একাধিক মরণাপন্ন রোগী। কিন্তু সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে এখনও অঙ্গদান নিয়ে ভীতি ও অজ্ঞতার অন্ধত্ব রয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মন থেকে সেই ভুল ধারণা ঝেড়ে ফেলতে এবার অভিনব ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। স্কুল পড়ুয়াদের মাধ্যমেই অঙ্গদানের এই মহৎ বার্তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাইছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর (West Bengal Education Department)। রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আদলে বড় পদক্ষেপ
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের ‘যুগ যুগ জিও অভিযান’-এর অনুকরণেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট ১৬তম ভারতীয় অঙ্গদান দিবসে ‘নোটো’ (NOTO) এই বিশেষ দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছিল। সেই জাতীয় উদ্যোগকেই এবার রাজ্যস্তরে সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে শিক্ষা দপ্তর।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট বা বাছাই করা স্কুল নয়, বরং রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, সরকারপোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু বিদ্যালয় চত্বরই নয়, শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয় এবং দপ্তরেও অঙ্গদান সংক্রান্ত প্রচারের কাজ চালাতে হবে। ইতিমধ্যেই জেলার সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ডিআই (DI)-দের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাজ শেষে বাধ্যতামূলক রিপোর্ট পেশ
শুধুমাত্র নির্দেশ জারি করেই খালাস নয়, এই কর্মসূচি কতটা নিখুঁতভাবে এবং সফলভাবে পালন করা হলো, তার সম্পূর্ণ হিসাবও কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলকে নির্দিষ্ট কর্মূচির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। পরবর্তীতে সেই কাজের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্কুল শিক্ষা অধিকর্তার দপ্তরে।

শিক্ষামহলের বড় একটি অংশের মতে, প্রচারের মাধ্যম হিসেবে স্কুলগুলিকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত কার্যকর সিদ্ধান্ত। কারণ, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছলে তা কেবল তাদের নিজেদের মনকেই প্রভাবিত করবে না, বরং তাদের হাত ধরে পরিবার এবং পড়শিদের অন্দরেও এই সচেতনতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। সমাজের গভীরে থাকা কুসংস্কার দূর করে আরও বেশি মানুষকে অঙ্গদানে এগিয়ে আসতে সাহায্য করবে শিক্ষা দপ্তরের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *