বাড়ির মন্দিরে স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু কোলে নিয়ে ধ্যানস্থ ঘাতক স্বামী! গঙ্গারামপুরের এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে গোটা রাজ্য

যেখানে কয়েক দিন আগেও ছিল সাধারণ একটি সংসার, আজ সেখানে শুধুই রক্ত আর মৃত্যুর বিভীষিকা! দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ায় ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা। বাড়ির অন্দরে মন্দিরের সামনে স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু কোলে নিয়ে দুই হাত উঁচু করে বসে থাকার এক নৃশংস ও হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরাও। বুধবার সকালে ঘটা এই লোমহর্ষক ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষ ও তাঁর মা বাণী ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
বাস কন্ডাক্টর থেকে তান্ত্রিক? কী বলছে প্রতিবেশীরা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে সীমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রিন্টুর। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। অতীতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (NBSTC) বাসে কন্ডাক্টরের চাকরি করতেন রিন্টু। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাকরি ছাড়ার পর থেকেই তাঁর আচার-আচরণে চরম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। মাঝেমধ্যেই তাঁকে তান্ত্রিকের বেশে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। পঙ্কজ ঘোষ ও বাবলু ঘোষ নামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিন্টুর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই লোকজনের ঝামেলা হতো এবং পারিবারিক অশান্তিও নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। কিন্তু সে যে এভাবে নিজের স্ত্রীর গলা কেটে রক্তে হোলি খেলবে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেননি।
মন্দিরে স্ত্রীর মুণ্ডু কোলে নিয়ে বসে থাকা!
বুধবার সকালে রিন্টুর বাড়ির ভেতর থেকে ভয়ংকর এই কাণ্ডের খবর চাউর হতেই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডুর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রিন্টু ও তাঁর মাকে পাকড়াও করা হয়েছে এবং নিহত গৃহবধূ সীমার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই খুন—তা জানতে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি থেকে আসা একটি বিশেষ ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের নজরে একাধিক জটিল প্রশ্ন
গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ নাকি গভীর কোনো তন্ত্রসাধনার যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে রিন্টুর মায়ের ঠিক কী ভূমিকা ছিল বা তিনিও কি এই ঘটনার অংশীদার ছিলেন, সে বিষয়েও দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বড় কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।