ত্রিপুরা সীমান্তে বিস্ফোরক পরিস্থিতি! বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালাল কারা? নেপথ্যে কি বড় কোনো চক্র?

বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্ক নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি। ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলায় বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু প্রশাসনিক মহলেই নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও পড়ে গিয়েছে শোরগোল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি এবং নজরদারির জেরে স্থানীয় জনজীবনে যে প্রভাব পড়েছে, তার ফলেই বাহিনীর প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে কি না—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

পাচার রুখতে গিয়েই বিপাকে জওয়ানেরা

ত্রিপুরার বক্সানগর ও সোনামুড়া এলাকা দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত। এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশ বেড়াবিহীন এবং যাতায়াত সহজ হওয়ায় পাচারকারীদের রমরমা লেগেই থাকে। গরু, মাদক পাচার থেকে শুরু করে গাঁজা চাষের মতো বেআইনি কারবার ঠেকাতে গিয়ে অতীতেও একাধিকবার বাধার মুখে পড়েছে বিএসএফ।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সীমান্তে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ পাচার চক্রের অবৈধ কারবারে বাধা দেন বিএসএফ জওয়ানেরা। সেই সময় এক ভারতীয় পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় এবং সীমান্তের ওপারে থাকা বাংলাদেশি পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ঠিক তারপরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ ওঠে, আচমকাই লাঠি-বাঁশ নিয়ে জওয়ানদের ঘিরে ধরে চড়াও হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল, যার মধ্যে মহিলারাও সামিল ছিলেন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিএসএফ ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা সহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়দের কি ব্যবহার করছে অপরাধচক্র?

স্থানীয় সূত্রের খবর, সীমান্তে সক্রিয় অপরাধের সিন্ডিকেটগুলি নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাধারণ গ্রামবাসীদের প্রায়শই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। বিএসএফ পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করলেই স্থানীয়দের উস্কে বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করানোর পুরোনো কৌশল এখানেও কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত রয়েছে। এই বিশাল এলাকায় পাহারা দেওয়া যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই কড়াকড়ির কারণে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাফেরায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই দূরত্বই হয়তো এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতর। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সোনামুড়া-কলমচৌড়া সীমান্তে সক্রিয় পাচার চক্রের সঙ্গে শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের যোগ রয়েছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সাফ জানিয়েছেন, বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই জাঁতাকলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *