রক্ষীদের তাড়া খেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন গাড়িচালক! তারপর মহাতারকা মিঠুন যা করলেন, জানলে চোখে জল আসবে

রুপোলি পর্দার ‘কাবুলিওয়ালা’ যে শুধু সিনেমার পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও মানুষের মন জয় করতে এবং ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে ভীষণ ভালোবাসেন—তার এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী প্রমাণ মিলল ফের। সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সুমন ঘোষের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা ছুঁয়ে গেছে হাজার হাজার ভক্ত ও নেটিজেনদের হৃদয়। পোস্টের কেন্দ্রে রয়েছেন এক অতি সাধারণ গাড়িচালক এবং তাঁর শৈশবের স্বপ্নের মহাতারকা, বাংলা ও হিন্দি সিনেমার প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

একঝলক দেখার আকুলতা ও রক্ষীদের তাড়া
গল্পের সূচনা ২০২৩ সালে, যখন পরিচালক সুমন ঘোষের পরিচালনায় ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির শুটিং জোরকদমে চলছিল। সারাদিনের ব্যস্ততা ও শুটিংয়ের ক্লান্তি শেষে পরিচালক নিজের গাড়ির কাছে এসে দেখেন, তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও অনুগত গাড়িচালক শওকত নিখোঁজ! কোনো পাত্তা নেই তাঁর। প্রায় আধঘণ্টা অপেক্খা করার পর অবশেষে হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে আসেন শওকত। চালকের ওপর রেগে যাওয়ার বদলে তাঁর মুখের চরম হতাশা ও করুণ অভিব্যক্তি দেখে আসল কারণ জানতে চান পরিচালক সুমন ঘোষ।

শওকত তখন ব্যথিত হৃদয়ে জানান, শুটিংয়ের মেকআপ ভ্যানের সামনে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় এবং পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ডিঙিয়ে নিজের স্বপ্নের মহাতারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে দূর থেকে অন্তত একঝলক দেখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা রক্ষীদের তাড়া ও কড়া বকা খেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। মিঠুনদাকে কাছ থেকে দেখার অধরা স্বপ্ন এবং সেই গভীর আক্ষেপের কথা গাড়িতে ফেরার পথে সুমন ঘোষকে খুলে বলেন শওকত। মহাতারকাকে ছোঁয়ার সেই আকুতি পরিচালকও নিজের মনে নিঃশব্দে চেপে রেখেছিলেন।

মাস ছয়েক পর সেই স্বপ্নের মুহূর্ত
অবশেষে মিলল সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির শুটিং পর্ব মিটে যাওয়ার প্রায় ৬ মাস পর, যখন কলকাতায় ডাবিং স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন মহাতারকা মিঠুন চক্রবর্তী, তখন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে শওকতকে ডেকে পাঠান পরিচালক সুমন ঘোষ। পরম স্নেহে মিঠুনদার সঙ্গে শওকতের পরিচয় করিয়ে দেন এবং নিজের উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত সেই বিরল মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করে তুলিয়ে দেন একটি ছবি! এক নিমেষে ঘুচে যায় সাধারণ এক চালকের আজীবনের অপূর্ণ স্বাদ।

“শওকত কেবল চালক নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু”
পরিচালক সুমন ঘোষ ফেসবুকে শওকত ও মহাতারকা মিঠুন চক্রবর্তীর সেই বিশেষ ছবিটি শেয়ার করে অত্যন্ত আবেগমথিত ভাষায় লেখেন, “শওকত শুধু আমার গাড়িচালক নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু… মিঠুনদা তার জীবনের একমাত্র হিরো। সেদিন ভিড়ের কারণে একঝলক দেখেই তাকে বকা খেয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল। আমি কথাটি মনে রেখেছিলাম। অবশেষে ডাবিংয়ের সময় ওকে ভেতরে ডেকে এই ছবিটি তুলে দিই। ওর আজীবনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছেটা অবশেষে পূরণ হলো।”

নেটপাড়ায় এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের প্রতি মহাতারকা মিঠুন চক্রবর্তীর এমন উদারতা এবং চালকের আবেগ অনুধাবন করার জন্য পরিচালক সুমন ঘোষের অনুভূতির প্রশংসা করছেন সকলেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *