কল্যাণমূলক প্রকল্পে বড় ধাক্কা! আধার কার্ড আর চলবে না, সরকারি টাকা পেতে এবার মানতে হবে এই নতুন নিয়ম

দেশের কল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং। তাঁর এক সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি সাহায্য বা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড আর একমাত্র মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে না। আধার জালিয়াতি ও ভুয়া উপভোক্তাদের কারসাজি রুখতে এবার থেকে ভোটার আইডি (EPIC নম্বর) এবং কঠোর বায়োমেট্রিক প্রমাণিকরণ বা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র।

আধার জালিয়াতি ও সহজলভ্যতাই বড় কারণ
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে আধার কার্ড অত্যন্ত সহজে তৈরি করা সম্ভব—মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জাল বা অনৈতিক উপায়ে আধার বানিয়ে নেওয়া যায়। এই সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তি ভুয়া আধার ব্যবহার করে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জালিয়াতির এই কালোবাজারি বন্ধ করতেই এই নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো নাগরিককে সরকারি সুবিধা পেতে হলে তাঁর এপিক নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য একসঙ্গে যাচাই করাতে হবে। এই দুইয়ের সঠিক মেলবন্ধনেই তৈরি হবে সুবিধাভোগীর আসল পরিচয় এবং সেই অনুসারেই সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
পঞ্চায়েত মন্ত্রকের আওতাধীন বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই নতুন নির্দেশিকা প্রযোজ্য হতে চলেছে। মন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে জানিয়েছেন, এর ফলে ভুয়া ও প্রতারণামূলক এন্ট্রিগুলি চিরতরে বাদ যাবে এবং শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীরাই সরকারি সহায়তার অর্থ হাতে পাবেন। গ্যাংটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বিশেষ কর্মশালায় এই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কেন ভোটার কার্ডের ওপর জোর? এতদিন বহু প্রকল্পের সঙ্গেই আধার সরাসরি যুক্ত ছিল। তবে আধারের অপব্যবহার ও যাচাই প্রক্রিয়ার কিছু ফাঁকফোকরের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইস্যু করা ভোটার আইডি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক যুক্ত হলে জালিয়াতির বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকবে না।

প্রয়োগ ও ক্ষেত্র: পঞ্চায়েত মন্ত্রকের সরাসরি আর্থিক অনুদান বিতরণের পাশাপাশি মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন স্কিমেও এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কোন কোন প্রকল্পে প্রথম এটি চালু হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা এখনও সামনে আসেনি।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে এর পাশাপাশি কিছু মহলে আশঙ্কার সুরও শোনা যাচ্ছে। অনেকের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে কারও নাম যদি ভুলবশত বাদ পড়ে, তবে তাঁরা যাতে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা দরকার। পাশাপাশি, যাঁদের ভোটার কার্ড হারিয়ে গেছে বা কোনো জটিলতা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, সরকারি অর্থ যাতে কোনো রকম নয়ছয় ছাড়াই সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *